রাশিয়ার বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তির ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন থেকে যুক্তরাজ্যে থাকা রাশিয়ার বিমান আটক করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। সেদেশে রাশিয়ার কোন বিমানের প্রবেশ, অবতরণ বা চলাচল অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া ও ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠরা আরও বেশি অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু নয়, কারণ আগেই সেদেশের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার প্রাইভেট জেট বিমানগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। বিশেষ করে যেগুলো তৃতীয় কোন দেশে তালিকাভুক্ত এবং রাশিয়ান ধনকুবেররা ব্যবহার করেন।এর আগে রাশিয়ার তেল-গ্যাসের ব্যাপারেও যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে যে, ২০২২ সালের মধ্যে তারা পর্যায়ক্রমে আমদানি কমিয়ে এনে একেবারে বন্ধ করে দেবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা শেল জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের প্রভাব রাশিয়ার ওপর ভয়ংকর ভাবে পড়বে এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে।যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে যে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য আমদানি করে, তার আট শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে আর যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে পরিমাণটা হলো ছয় শতাংশ।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারাও কয়েকটি দেশে কিছু কাঁচামাল ও পরিশোধিত পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দেবে। তবে কী কী পণ্য পাঠানো তারা বন্ধ করবে সেই তালিকা এখনো দেয়া হয়নি। তেল-গ্যাস ছাড়াও রাশিয়া থেকে পশ্চিমা দেশগুলো দানাশস্য ও মাংস কিনে থাকে।
তবে রাশিয়া আগেই হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপর তেল ও গ্যাস নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি তিনশ ডলার হবে। তার ধাক্কা বিশ্বের প্রতিটি দেশের ওপর এসে পড়বে। তাছাড়া তারা জার্মানিকেও গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
