Homeফিচার সংবাদশুক্রকে নিজেদের গ্রহ দাবি রাশিয়ার

শুক্রকে নিজেদের গ্রহ দাবি রাশিয়ার

কর্তৃত্বের সীমা আর পৃথিবীর মধ্যে আটকে থাকছে না। ভিনগ্রহের ওপরও নজর পড়েছে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলোর। তাইতো শুক্র গ্রহের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটি বলছে, শুক্র হলো রাশিয়ান গ্রহ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শনিবারের অনলাইন প্রতিবেদনে মস্কোর এমন দাবি তোলার খবর জানিয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি রোগোজিন চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিত শুক্র অভিযান ‘ভেনেরা-ডি’ ছাড়াও তার দেশ নতুন করে শুক্র গ্রহে নিজেদের আরও একটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

মস্কোতে হেলিকপ্টার শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হেলিরাশিয়া-২০২০ নাম আয়োজনে গত মঙ্গলবার তিনি এসব কথা জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শুক্রে পুনরায় অনুসন্ধান আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত। আমরা মনে করি শুক্র রাশিয়ার একটি গ্রহ, সুতরাং আমাদের পিছিয়ে থাকা উচিত নয়।’

শুক্র গ্রহে পৃথিবীর মতো ফসফিন গ্যাসের অস্তিত্ব শনাক্তের পর গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে—সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী এটা জানানোর পরই শুককে নিজেদের দাবি করলো রাশিয়া। শুক্রের আয়তন পৃথিবীর সমান। পৃথবী থেকে দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়া শুক্রকে আমাদের প্রতিবেশী গ্রহ বলা হয়।

সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এমনিতেই শুক্র গ্রহের মেঘ ভীষণ রকম অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। এই মেঘে ফসফিনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, এই গ্যাস পৃথিবীতে উৎপন্ন হয় ব্যাকটেরিয়া থেকে। অক্সিজেন রয়েছে—এমন পরিবেশে থাকা ব্যাকটেরিয়া এই গ্যাস নিঃসরণ করে।

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেন গ্রিভসের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গত সোমবার এ সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধটি নেচার অ্যাস্ট্রোনমি নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। নিজের পর্যবেক্ষণ ও এর ফলাফল নিয়ে গ্রিভস বলেন, ‘আমি ভীষণ রকম বিস্মিত হয়েছি।’

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতে, শুক্র গ্রহ নিয়ে আলাপ উঠলে স্বীকার করতে হবে যে রাশিয়ানদের এই গ্রহটি নিয়ে বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শুক্র গ্রহ নিয়ে রাশিয়ায় যে গবেষণা হয়েছে তা এই গ্রহে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments