এস এম আলম ৭ জুন :: পাবনা ২৪ ঘন্টার মধ্যে শহরের পৌর এলাকার দিলালপুর মহল্লায় বাসার ভেতরে এক পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পাবনা জেলা পুলিশ । রবিবার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এএস আই আব্দুল জলিল মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, জব্দকৃত মালামাল ও হত্যাকান্ড সংঘটনে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং আসামী গ্রেফতার- সংক্রান্ত তথ্য দেন পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আরাফাত লেনিন, অফিসার ইনচার্জ নাসিম আহমেদ সহ পাবনা জেলা পুলিশ এর সদস্যবৃন্দ।গত ৫ জুন একই পরিবারের তিনজন সদস্যকে নিজ বাসভবনে হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা নিশ্চিত করে পাবনা জেলা পুলিশ । নিহতরা হলেন- রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার (৬৪), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৫০) ও তাদের মেয়ে সানজিদা খাতুন (১৪)। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজশাহী থেকে ফরেনসিক টিম আনয়ন সহ পাবনা ডিবি পুলিশ ও একাধিক টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ড সংগঠনকারী আসামী তানভীর হোসেন(২৫), পিতা : মৃত হাসেম আলী, সাং- হরিপুর,থানা মহাদেবপুর, জেলা – নওগাঁ; তার নিজ বাড়ী হতে গ্রেফতার করে পাবনা জেলা পুলিশ । গ্রেফতার এর পর ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদে এক এক লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বর্ণণা করে আসামী তানভীর ।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার ও তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন এক কন্যা দত্তক নিয়ে লালন পালন করতে থাকেন । তাদের মেয়ে সানজিদা খাতুন ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। কন্যা সন্তানের পাশপাশি বাড়ীর পাশে ফায়ার সার্ভিসের মসজিদে ইমামতি করা তানভীর হোসেন এর ব্যবহারে সুষ্ঠ ও সন্তুষ্ট হয়ে তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহন করেন এই দম্পতি। সেই সূত্রে এই দম্পতির বাসায় অবাধে চলাফেরা ছিল তানভীরের। ব্যংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী তাকে আপন মনে করে তাদের ব্যংক, পোস্ট অফিস এমনকি তাদের বিভিন্ন লেনদেন সর্ম্পকিত কর্মকান্ডে তানভীরকে তাদের সাথে রাখতেন । রোযার সময় সেহরী, ইফতারসহ তিন সন্ধ্যায় তানভীরকে নিয়ে পরিবারের মত আহার করতেন এই দম্পতি। কিন্তুু অর্থের লোভ লালসা ও বৃদ্ধ দম্পতির বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সেই পালক ছেলেই টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই ভয়ংকর হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে ।

পরিকল্পনামত তানভীর ৩১ মে তার নিজ বাড়ী নওগাঁ হতে পাবনা আসে ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর জব্বার এর বাড়ীতে রাতে ঘুমানোর জন্য অসে। রাত আনুমানিক ২ টার সময় আসামী তানভীর বাড়ীর সকলে ঘুিময়ে গেলে হত্যবান্ডের সকল অস্ত্র প্রস্তুত করে ও চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষন কওে পুনরায় ঘুমানোর নাটক করতে থাকে । রাত ৪ টা ৫ মিনিটে আব্দুর জব্বারবাথরুমে যাবার জন্য উঠলে তাকে পেছন থেকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে । ধস্তাধস্তির সময় এক পর্যায়ে আব্দুর জব্বার তানভীরের ডান হাতের আঙ্গুল কামড়ে ধওে ও কেটে যায়। শ্বাসরোধ কৃত হয়ে জ্ঞান হারানোর পর ধারালো চাকু দিয়ে তার বুকে আঘাত করে আসামী তানভীর । পরে পার্শ্ববর্তী ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আব্দুল জব্বার এর স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও তাদের মেয়ে সানজিদা খাতুন কে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্য নিশ্চিত করতে কাঠের বাটাম নিয়ে পুররায় তাদেও মাথায় আঘাত করতে থাকে ঘাতক তানভীর । হত্যাকান্ড শেষে লুট করে নগদ ২ লক্ষ্য টাকা, ১লক্ষ্য ভারতীয় রূপী ও স্বর্ণালংকার । লুটপাট শেষে পুনরায় আব্দুর জব্বার এর ঘরে প্রবেশ করে লক্ষ্য করে প্রায় মৃত্যকোলে ঢোলে পড়া আব্দুল জব্বারকে। পুনরায় আব্দুর জব্বার এর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে পুনরায় আঘাত করতে থাকে তানভীর। হত্যাকান্ড ও লুটপাট শেষে বাড়ী তালা দিয়ে সন্তোপর্নে বাড়ী থেকে পালিয়ে নওগাঁ চলে যায় আসামী।

গত ৫ জুন গলিত অবস্থায় শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার ভাড়াবাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাবনা দিলালপুর ফায়ার সার্ভিসের পাশে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার এর বাসা থেকে পচা উৎকট গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। খবর পাওয়ামাত্র পাবনা জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিথ হয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে। শুক্রবার দুপুরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, ওই বাসার আশপাশ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। স্থানীয়রা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আব্দুল জব্বারের বাসায় গিয়ে খোলা জানালায় উঁকি দিয়ে দেখে, এক রুমে স্বামী ও স্ত্রী বিছানায় মশারির মধ্যে এবং অন্য রুমে মেয়েটি বিছানায় পড়ে আছে। তাদের উপরে অনেক মাছি উড়ছিল এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তারা দ্রুত পুলিশে খবর দিলে পাবনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম এর নের্তৃত্বে রাজশাহী থেকে ফরেনসিক টিম আনয়ন সহ পাবনা ডিবি পুলিশ ও একাধিক টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে হত্যাকান্ড পরিচালনা কারী আসামী তানভীরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে নগদ ২ লক্ষ্য টাকা, ১লক্ষ্য ভারতীয় রূপী ও স্বর্ণালংকার, খুনে ব্যবহার করা তিনটি চাকু, কাঠের বাটাম, ১টি গামছা ও ৪ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আসামী তানভীরকে মহামান্য আদালতের নিকট সোর্পদ করেছে পুলিশ ।
