প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এই তথ্য নিশ্চিত করেন।ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও দুটি দেশ আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সপ্তাহখানেক পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালো স্পেন। এখন কলম্বিয়া, মিশর ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে পেদ্রো সানচেজের দেশটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় যোগদানের অনুরোধ জানাবে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো ও চিলি।সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইসিজে গাজার রাফাহ শহরে হামলা চালানো বন্ধ করার রায় দিলেও, ইসরায়েলি বাহিনী তা অগ্রাহ্য করে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওই মামলায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।তিনি আর বলেন, আমরা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের আঞ্চলিক সম্প্রসারণকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। স্পেন শুধু গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আনতে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো- যুদ্ধের অবসান ঘটানো ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান কার্যকর করার পথে আগানো।গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বর সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৩৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহত ৮১ হাজারেরও বেশি। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে গত বছর ডিসেম্বরের শেষদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৪ মে রাফায় হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আইসিজে। ওই রায় ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই রাফার শাবৌরা শরণার্থী শিবিরে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার মামলায় যোগ দেবে স্পেন
RELATED ARTICLES
