Homeআন্তর্জাতিকআলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ শর্ত দিলো ইরান

আলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ শর্ত দিলো ইরান

চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতায় পৌছাঁতে হলে ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচটি শর্ত মানতে হবে। আস্থা-সৃষ্টিকারী এই পাঁচটি শর্ত যতক্ষণ না পূরণ করা হবে ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসবে না ইরান। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার (১২ মে) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।সূত্রটি জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা শুরু করার জন্য এসব শর্তকে ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-

১) সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা (বিশেষ করে লেবাননে)

২) ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার;

৩) জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা

৪) যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও

৫) হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া।

সূত্রটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির পরও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তেহরানের অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এমন বার্তা পাঠিয়েছে ইরান।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আলোচনায় ফেরার জন্য ন্যূনতম আস্থা তৈরির কাঠামোর মধ্যেই এই শর্তগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়া নতুন আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয় বলে মনে করে তেহরান।ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই ইরান এই পাঁচ শর্ত উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি ছিল ‘সম্পূর্ণ একতরফা’ এবং যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জনে ব্যর্থ হওয়া লক্ষ্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টার উদ্দেশ্য নিয়ে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।।

গত রোববার যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে পাকিস্তানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে ট্রাম্প সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments