বিদায়ী ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা না পেলেও অ্যাসিস্ট করেছেন মোহাম্মদ সালাহ। এবং আবেগঘন বিদায়ের মাধ্যমে শেষ করলেন লিভারপুলে তার ৯ বছরের অধ্যায়। এই ম্যাচে গড়েছেন অ্যাসিস্টের রেকর্ডও। ৯৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক এখন তিনি।ঘরের মাঠে ব্রেন্টফোর্ড এফসির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে প্রিমিয়ার লিগের টেবিলে পঞ্চম স্থানে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে লিভারপুলের।সাম্প্রতিক সময়ে কোচ আর্নে স্লট সালাহর খেলার ধরন নিয়ে সমালোচনা করলেও বিদায়ী ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা হয়েছিল তাকে। পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত। প্রথমার্ধে তার নেওয়া ফ্রি-কিক ফিরে আসে পোস্টে লেগে। সেই অর্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ মিনিটে বাঁ পায়ের অ্যাসিস্টে দারুণ এক পাস বাড়িয়ে দেন কুর্তিস জোন্সকে। যেখান থেকে এগিয়ে যায় লিভারপুল।এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে সালাহ লিভারপুলের হয়ে নিজের ৯৩তম অ্যাসিস্ট পূর্ণ করেন এবং ভেঙে দেন স্টিভেন জেরার্ডের ৯২ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে তাকে বদলি করা হলে অ্যানফিল্ডে আবেগের ঢেউ নেমে আসে। চোখে জল নিয়ে সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন সালাহ, আর গ্যালারিতে সমর্থকেরা উচ্চস্বরে তার নাম ধরে গান গাইতে থাকে। মাঠ ছাড়ার আগে হাঁটু গেড়ে সংক্ষিপ্ত প্রার্থনাও করেন তিনি।ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে সালাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় জীবনে এত কাঁদিনি। আমি খুব একটা আবেগপ্রবণ মানুষ নই। আমরা এখানে আমাদের যৌবন কাটিয়েছি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভাগাভাগি করেছি। আমরা এই ক্লাবকে তার প্রাপ্য জায়গায় ফিরিয়ে এনেছি।’পরে আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন একই ট্রান্সফার উইন্ডোতে সালাহর সঙ্গে লিভারপুলে যোগ দেওয়া অ্যান্ডি রবার্টসনও মাঠ ছাড়েন। সমর্থকরা তাকেও দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ বিদায়ী ফুটবলারদের জন্য গার্ড অব অনার দেন। স্টেডিয়ামের ঘোষণায় তাদের অর্জনগুলো তুলে ধরা হলে আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।শেষ বাঁশির পরও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকেন সালাহ। বিদায় নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই জীবন। আমি ফিরে তাকিয়ে ভাবি, আমি যা অর্জন করেছি তার চেয়ে বেশি কিছু কি চাইতাম? না, সত্যি বলতে নয়। আমরা সবকিছু জিতেছি। সমর্থকদের ভালোবাসা পেয়েছি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
