উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে একের পর এক রেকর্ড গড়েই চলেছেন কিলিয়ান এমবাপে। রোমার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে গোল করে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রাউল গঞ্জালেসকে ছাড়িয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন ফরাসি এই তারকা। একই সঙ্গে মেসিকে পেছনে ফেলে মাত্র ২৭ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।

বুধবার রোমের এস্তাদিও অলিম্পিকোতে ১-৩ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। দলের প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এমবাপে। প্রথমার্ধে তার গোলেই সমতায় ফিরেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এই গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭২-এ। ফলে ৭১ গোল করা রিয়ালের সাবেক তারকা রাউলকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন তিনি।চ্যাম্পিয়নস লিগে এমবাপের চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল চারজন। তালিকার শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তার গোল ১৪০টি। দ্বিতীয় স্থানে লিওনেল মেসি ১০৭ গোল নিয়ে। তৃতীয় রবার্ট লেওয়ানডস্কির গোল ৯০টি। আর ৭২ গোল নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছেন করিম বেনজেমা।রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি এমবাপের চ্যাম্পিয়নস লিগ ক্যারিয়ারের জন্য আরও একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এই প্রতিযোগিতায় ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এর আগে সবচেয়ে কম বয়সে ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল মেসির দখলে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমার বিপক্ষেই ২৮ বছর বয়সে শততম ম্যাচ খেলেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
এমবাপের চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হয়েছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোনাকোর হয়ে। এরপর পিএসজি হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে এসে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেকে অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।গত মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এমবাপে। সেবার ১৫ গোল করেছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে মাত্র ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের মধ্যে হ্যাটট্রিক করে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের তালিকায়ও জায়গা করে নেন তিনি।রোমার মাঠে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য রিয়ালের জন্য সহজ ছিল না। ২০ মিনিটে মার্টেন ডি রুনের দূরপাল্লার শট ডনিয়েল মালেনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরে রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পের জোরালো শট জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে রোমার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোলিনিকে পরাস্ত করে। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় রোমা। ৫১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন মালেন। সাত মিনিট পর মাতিয়াস সুলের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমার ব্যবধান ৩-১ করেন এই ফরোয়ার্ড।দুই গোলের ঘাটতি নিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে চাপে পড়ে রিয়াল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিচিত ইউরোপীয় মানসিকতার প্রমাণ দেয় দলটি। ৮৩ মিনিটে আরদা গুলারের কর্নার থেকে এন্দ্রিকের হেড গোলরক্ষকের বাধা পেয়ে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করেন সেসার পালাসিওস এসপি। ব্যবধান কমে হয় ৩-২।এর দুই মিনিট পর আবারও গুলারের কর্নার। এবার উঁচুতে উঠে হেডে বল জালে পাঠান এন্দ্রিক। ৩-৩ সমতায় ফেরে রিয়াল। এরপর ৮৯ মিনিটে গুলারের আরেকটি কর্নার থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন আন্তোনিও রুডিগার। তাতেই প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি।একই রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড গড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডও। পিএসজির বিপক্ষে সিটির ৪-২ গোলের হারের ম্যাচে দুটি গোল করেন তিনি। তাতে প্রতিযোগিতায় তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬১, যা এসেছে মাত্র ৬০ ম্যাচে।উয়েফার তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হালান্ড। এর মাধ্যমে মেসির আগের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। মেসি এই কীর্তি গড়েছিলেন হালান্ডের চেয়ে এক দিন বেশি বয়সে।
একই রাতে এমবাপে ও হালান্ডের রেকর্ড ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে রোমার বিপক্ষে রিয়ালের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে এমবাপের ব্যক্তিগত অর্জন ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাউলকে পেছনে ফেলা, ১০০ ম্যাচের মাইলফলক এবং দলের জয়ে গোল- সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করলেন ফরাসি তারকা।


