শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা বলে দেবে সময়। তবে এখন যে দুজনের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, তাদের একজন জাকের আলী অনিক। ঢাকা টেস্টে তিনি একাদশেই ছিলেন না। কনকাশন বদলি হিসেবে কিপিং করেছেন। ব্যাটিংয়েও নেমেছেন মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের জায়গায়। আরেকজন নাঈম হাসান। দুজনই অপরাজিত আছেন ১৮ রানে।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই টেস্টে তৃতীয় স্পিনার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন নাঈম। আজ বল হাতে চমক দেখানো অফস্পিনার ব্যাট হাতেও সংকটের মুহূর্তে লড়ে যাচ্ছেন।নামের আগে যাদের ব্যাটসম্যান পরিচয়, তাদের প্রায় সবাই এখন সাজঘরে। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দিয়েছেন প্রায় সব ব্যাটার। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলাম করেছেন ১৩ রান, তানজিদ তামিম ০, নাজমুল হোসেন শান্ত ১০, তাওহিদ হৃদয় ০ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৯ রান।

৩৫ রানে ৫ উইকেট এবং ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ধুঁকছিল। দল যখন নিশ্চিত পরাজয়ের শঙ্কায়, ঠিক তখনই হাল ধরেছেন জাকের আলী ও নাঈম হাসান। ষষ্ঠ উইকেটে চাপের মুখে অবিচ্ছিন্ন ২৬ রান যোগ করেছেন দুজন।এই জুটির ওপরই নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কত রানের লিড নিতে পারে। এখন পর্যন্ত লিড বেড়ে হয়েছে ১০৬ রান। হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট।দেখা যাক, এখান থেকে শেষ পর্যন্ত কত রানে এগিয়ে থাকতে পারে শান্তর দল।বাংলাদেশের স্পিনার নাঈম হাসান আজ তৃতীয় দিন লাঞ্চের আগে ও পরে বল হাতে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাইয়েছেন। ৭.৫ ওভারের টানা স্পেলে ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।নাঈমের ওই বিষাক্ত স্পেলেই ১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রানে থেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।
তবে নাঈমের ওই স্পেল দেখে আবার ভাববেন না, উইকেট পুরোপুরি স্পিনারদের পক্ষে চলে গেছে কিংবা বল বিপজ্জনকভাবে ঘুরছে। হ্যাঁ, বোলারদের বুটের স্পাইকে পপিং ক্রিজের আশপাশে কিছুটা ক্ষত তৈরি হয়েছে। তবে উইকেট এখনো আনপ্লেয়েবল হয়ে ওঠেনি। তাই ১০৬ রানই জয়ের জন্য যথেষ্ট পুঁজি, এমনটা ভাবার কারণ নেই।বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসান মনে করেন, অন্তত ২০০ রানে এগিয়ে থাকতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। অবশ্য ক্যারিবীয় দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধি (ওয়ার্ড রেফারি) দেড়শো রানকেও নির্ভর করার মতো পুঁজি বলে মনে করছেন।
যাই হোক, বাংলাদেশ এখনো লড়াই করার মতো পুঁজি গড়তে পারেনি। অন্তত ৫০ রান কম আছে। জাকের আলী অনিক ও নাঈম হাসান সপ্তম উইকেটে আরও ৫০ রান যোগ করতে পারলে হয়তো একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে শান্তর দলের।প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নির্ভর করার মতো পুঁজি গড়ার পথ যখন প্রায় রুদ্ধ, তখন সেখান থেকে দেড়শো থেকে পৌনে দুইশো রানের লিড পেলেও সেটি কম কী!


