টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে হারিয়ে এবারের আইপিএল মিশন শুরু করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আজকের আগে নিজেদের ছয় ম্যাচে ৫টি জিতে রীতিমতো উড়ছিল তারা। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে আজ জয় পেলে টেবিলের শীর্ষে উঠে যেত বিরাট কোহলির দল।কিন্তু তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ করতে দেয়নি পাঞ্জাব। উড়ন্ত ব্যাঙ্গালুরুকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে আসরে নিজেদের তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে লোকেশ রাহুলের দল। ব্যাট হাতে ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক রাহুল।
ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে পাঞ্জাব দাঁড় করায় ১৭৯ রানের বড় সংগ্রহ। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের বেশি করতে পারেনি ব্যাঙ্গালুরু। এই রানও তারা করতে পারত না, যদি না অষ্টম উইকেটে অবিশ্বাস্য জুটি গড়তেন হার্শাল প্যাটেল ও কাইল জেমিসন। তাদের ২২ বলে ৪৮ রানের জুটিতে পরাজয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩৪ রানে।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে একবারও মনে হয়নি ম্যাচটি জিততে পারে ব্যাঙ্গালুরু। পাওয়ার প্লে’তে মাত্র ১ উইকেট হারালেও স্কোরবোর্ডে ৩৬ রান যোগ করে তারা। ফর্মে থাকা পাড্ডিকাল আউট হন ৭ রানে। ইনিংসের ১১তম ওভারে দলীয় ৬২ রানে সাজঘরে ফেরার সময় কোহলির নামের পাশে ৩৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংস।
তিন নম্বরে নামা রজত পাতিদারও খেলেন ওয়ানডে সুলভ ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৩১ রান। অবশ্য যা রান করার এ দুজনই করেছেন। কেননা এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (০), এবি ডি ভিলিয়ার্স (৩), শাহবাজ আহমেদ (৮) ও ড্যানিয়েল স্যামসরা (৩) দুই অঙ্কেও যেতে পারেননি।মাত্র ৯৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে সেখানেই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ব্যাঙ্গালুরু। বল হাতে কোহলি, ম্যাক্সওয়েল ও ডি ভিলিয়ার্সকে আউট করেন আইপিএলে মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা হারপ্রিত ব্রার। নিজের ৪ ওভারে এক মেইডেনসহ মাত্র ১৯ রান খরচায় মহামূল্যবান ৩টি উইকেট নেন তিনি।এরপর বাকি ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। তবু প্রতিরোধ গড়েন জেমিসন ও হার্শাল। দুজন মিলে ২২ বলে যোগ করেন ৪৮ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে ৩১ রান করেন হার্শাল। জেমিসন অপরাজিত থাকেন ১১ বলে ১৬ রান করে।
এর আগে আহমেদাবাদে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না পাঞ্জাবের। ২১ বলের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১৯ রান উঠতেই সাজঘরের পথ ধরেন প্রভসিমরান সিং (৭ বলে ৭)। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ক্রিস গেইল আর লোকেশ রাহুলের ৮০ রানের জুটি।দলীয় ৯৯ রানের মাথায় গেইল ঝড় থামিয়ে এই জুটিটি ভাঙেন ড্যানিয়েল স্যামস। ২৪ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় গেইল তখন হাফসেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে (৪৬)। তারপরও ১১ ওভারেই ১০০ পার করে পাঞ্জাব।
কিন্তু এরপর ধস নামে তাদের ইনিংসে। ১৯ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে রাহু্লের দল। একে একে সাজঘরের পথ ধরেন নিকোলাস পুরান (০), দীপক হুদা (৫), শাহরুখ খানরা (০)। ৫ উইকেটে ১১৮ রানে পরিণত হয় পাঞ্জাব।এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে বলতে গেলে একাই লড়াই করেছেন লোকেশ রাহুল। অধিনায়কের মতোই খেলেছেন একদম। ৫৭ বলে ৭ চার আর ৫ ছক্কায় ইনিংসের শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ৯১ রানে। ১৭ বলে ২৫ রানে তার সঙ্গে ছিলেন হারপ্রিত ব্রার।ব্যাঙ্গালুরু বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল কাইল জেমিসন। ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩২ রান খরচায় তিনি নিয়েছেন ২টি উইকেট।
