বর্তমানে দেশের ১৬টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত। ১৩টি নদীর পানি ২১টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের উজানে ভারত সংলগ্ন বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় রয়েছে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসও। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
অপরদিকে নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বা সামান্য উন্নতি হতে পারে।

তারা আরও বলছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি কমতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীর পানি কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের ১০১টি পানি স্টেশনের মধ্যে পানি বাড়ছে ৫৬টির, কমছে ৩৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি স্টেশনের পানি। আর বিপৎসীমার উপরে রয়েছে ২১টি স্টেশনের পানি। স্টেশনগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম অংশে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা অংশে ৫৩, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া অংশে ৪৪, চিলমারী অংশে ৬২; যমুনার ফুলছড়ি অংশে ৮৫, বাহাদুরাবাদ অংশে ৯২, সারিয়াকান্দি অংশে ৯৮, কাজিপুর অংশে ৯১, সিরাজগঞ্জ অংশে ৮১, আরিচা অংশে ৬৮; গুড়ের সিংড়া অংশে ৫৩, আত্রাইয়ের বাঘাবাড়ী অংশে ১০০, ধলেশ্বরীর এলাসিন অংশে ১০৭, পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের জামালপুর অংশে ২, কালিগঙ্গার তারাঘাট অংশে ৫৮, পদ্মার গোয়ালন্দ অংশে ১০৩, ভাগ্যকুল অংশে ৬৪, মাওয়া অংশে ৫৭; সুরমার কানাইঘাট অংশে ৫, পুরাতন সুরমার দিরাই অংশে ২ সেন্টিমিটার এবং মেঘনার চাঁদপুর অংশে ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ২০০৪ সালের পর দেশে এত দীর্ঘসময় ধরে আর কখনও বন্যা ছিল না
