Homeজেলা সংবাদপাবনায় দৈনিক যুগান্তরের ২৩ বছরে পদার্পনে প্রীতি সম্মেলন

পাবনায় দৈনিক যুগান্তরের ২৩ বছরে পদার্পনে প্রীতি সম্মেলন

এস এম আলম, ০১ ফেব্রুয়ারি : পাবনায় দৈনিক যুগান্তর এর ২৩ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সম্মীলন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে যুগান্তর সত্য ও সাহসের সঙ্গে গণমানুষের কথা বলে। এজন্যই যুগান্তর পাঠকের হৃদয় জয় করেছে এবং গণমানুষের জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছে। যুগান্তর এখন দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রিয় পত্রিকা। তারা বলেন, যুগান্তর অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে প্রকাশনার শুরু থেকেই ‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ এই স্লোগানকে সামনে সত্য প্রকাশে অবিচল রয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়া এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও পাঠক যুগান্তর এর উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। বক্তারা বলেন, দেশে এখন যুগান্তর এর সঙ্গে অন্য কোন পত্রিকার আর তুলনা করা চলেনা। তারা আরো বলেন, যুগান্তর এর এই ঐতিহ্যের ধারা বজায় রাখতে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ তো বটেই আরো বেশী বেশী করে উন্নয়ন সংবাদ পরিবেশন করে দেশ গড়ায় আরো অবদান রাখতে হবে। মঙ্গলবার পাবনা শহরের আব্দুর হামিদ সড়কের মিডিয়া সেন্টারে যুগান্তর স্বজন সমাবশের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে এই প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রীতি সম্মীলনীতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কেটে স্বজন সদস্যদের সঙ্গে বিশিষ্টজনরা আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এই আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ।যুগান্তর স্বজন সমাবেশ পাবনার সভাপতি ও পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শিবজিত নাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, পাবনা পৌরসভার মেয়র শরিফ উদ্দিন প্রধান, বিশিষ্ট সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মুক্তার হোসেন, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক ও কথা সাহিত্যিক আখতার জামান, শহিদ সরকারি বুলবুল অধ্যাপক মো: আব্দুর রাজ্জাক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ও সাকার পরিচালক ও স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক পরিচালক আব্দুল খালেক খান, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারন সম্পাদক ভাষ্কর চৌধুরী, বেসরকারি সংগঠন বাঁচতে চাই এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের অর্থ সম্পাদক কবি ও লেখক আদ্যনাথ ঘোষ, দৈনিক পাবনার খবরের সম্পাদক এমজি বিপ্লব চৌধুরী, আরটিভির সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, পাবনা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক আলী আকবর রাজু, সাংবাদিক সৈয়দ আকতারুজ্জামান পাপুল, দৈনিক আমাদের সময় এর সাংবাদিক সুশান্ত সরকার,মহিয়সী প্রকাশনীর পরিচালক কবি রেহেনা সুলতানা শিল্পী প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক নাট্যকার এইচ কে এম আবু বকর সিদ্দিক, দৈনিক ইছামতির নির্বাহী সম্পাদক লেখক মোসতাফা সতেজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোকাফ্ফর হোসাইন, অনলাইন পত্রিকা ’নতুন চোখ’ এর প্রকাশক ও বাংলা টিভির জেলা প্রতিনিধি এস এম আলম, দেশ টিভির সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সহসম্পাদক জিকে সাদী, ইউএনবি ও নিউজ টু-ডে’র সাংবাদিক এস এম আলাউদ্দিন, প্রভাষক মো: লিটন আহমেদ, কবি জহুরুল ইসলাম, আবৃত্তি শিল্পী মতিউর রহমান, বার্তা বাজার এর পাবনা প্রতিনিধি মাসুদ রানা, সাংস্কৃতিক কর্মী তারেক খান, পত্রিকা পরিবেশক মো: লিটন সেখ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তর এর পাবনা প্রতিনিধি এবং পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার। সার্বিক অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সহসভাপতি কামাল আহমেদ সিদ্দিকী।অনুষ্ঠানে পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, দেশের প্রিন্ট মিডিয়া এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও পাঠক যুগান্তর এর উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। কারণ যুগান্তর পাঠকের প্রত্যাশা পুলণ করতে পারছে। যুগান্তর পাঠককে ধরে রাখতে পারছে। তিনি বলেন, যুগান্তর তার গুণগত মান বজায় রেখে সত্য প্রকাশে অবিচল রয়েছে। অনেক গঠনমুলক সমালোচনা আমাদেরকে সমৃদ্ধ করছে। এই পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। তিনি দেশের একজন সনামখ্যত সাংবাদিক। পত্রিকাটিকে শীর্ষস্থান ধরে রাখায় তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল যমুনা গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুল এর সমঋতি চারণকরে বলেন, বাবুল সাহেব অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে এবং ঝুঁকি নিয়ে যমুনা গ্রুপের মত এই বিশাল শিল্প গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন। এতবড় মানুষ হয়ে তিনি ছিলেন নিরহংকারি। তার সাথে আমার পরিচয় ছিল। তার চমৎকার ব্যবহার কোনদিন ভুলবো না। তিনি বলেন, তার নীতি আদর্শ সম্পর্কে আমার ভাল ধারণা রয়েছে। বাবুল সাহেব অসত্য এবং অন্যায়ের সঙ্গে কোন আপোস করেননি। বিদেশে টাকা পাচার করেননি। তিনি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি ছিলেননা। দেশের টাকা দেশেই লগ্নি করে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। বাবুল সাহেব দৈনিক যুগান্তর এবং যমুনা টিভির মত দু’টি শীর্ষ মিডিয়া হাউস প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাঁর নামও ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। পৌর মেয়র শরিফ উদ্দিন প্রধান বলেন, সংবাদপত্রের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে। দেশ ও জাতি গঠনেও সংবাদ মাধ্যম গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। যুগান্তর অনেকাংশেই তা পুরণ করতে পেরেছে। এজন্যই এই পত্রিকাটির স্থান পাঠকের হৃদয়ে। এটি অব্যাহত রাখতে হবে। সভাপতির বক্তৃতায় প্রফেসর শিবজিত নাগ বলেন, সংবাদপত্রের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক মিডিয়ার উত্থান পতন হয়েছে। কিন্ত বস্তনিষ্ঠ সংবাদ এবং সত্য ও সাহসী ভুমিকার যুগান্তর এখনো মর্যাদার সঙ্গে টিকে রয়েছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, পাঠকই সংবাদ মাধ্যম টিকে থাকার মুল স্তম্ভ। অসত্য এবং দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী সাংবাদিকতা দিয়ে পাঠকের হৃদয় জয় করা যায়না। এটি বার বার প্রমাণিত হয়েছে। আমি মনে করি যুগান্তর সঠিক জায়গায় আছে এবং এটি অব্যাহত আছে বলেই যুগান্তর এর সঙ্গে দেশের অন্য কোন পত্রিকার তুলনা করা চলেনা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments