রাশিয়া-ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম গম ক্রেতা মিসর। কিন্তু দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের কারণে দেশটি এবার ভারত থেকে গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযুষ গয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বিশ্বের মোট গম রপ্তানির ২৯ শতাংশই সরবরাহ করে রাশিয়া-ইউক্রেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে গম সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।২০২০ সালে রাশিয়া থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ও ইউক্রেন থেকে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের গম আমদানি করেছিল মিসর। উত্তরপূর্ব আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সংযোগকারী দেশটি এখন ভারত থেকে ১০ লাখ টন গম আমদানি করতে চায়, এর মধ্যে চলতি এপ্রিল মাসেই নেবে ২ লাখ ৪০ হাজার টন।
পীযুষ গয়াল এক টুইটে বলেন, ভারতের কৃষকরা এখন বিশ্বকে খাওয়াচ্ছেন। ভারতকে গম সরবরাহকারী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে মিসর। বিশ্ব স্থিতিশীল খাদ্য সরবরাহে নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎসের সন্ধানে নামলে এগিয়ে যায় মোদী সরকার। কৃষকরা আমাদের শস্যভাণ্ডার উপচে পড়া নিশ্চিত করেছেন এবং আমরা সারা বিশ্বকে তা পরিবেশন করতে প্রস্তুত।ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক হলেও রপ্তানিতে তাদের অংশ এক শতাংশেরও কম। দেশটির উৎপাদিত গমের সিংহভাগই ব্যবহৃত হয় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে। বাকি অংশ বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে রপ্তানি হয়।পরিমাণ ও মূল্য উভয় দিক থেকে ভারতীয় গমের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের মোট গম রপ্তানির ৫৪ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশে। ওই বছর ভারতীয় গমের শীর্ষ ১০ ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ওমান ও মালয়েশিয়া।
এছাড়া, ২০২১-২২ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশটি গম রপ্তানি করেছে ১৭৪ কোটি ডলারের, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তাদের রপ্তানি ছিল মাত্র ৩৪ কোটি ১৭ লাখ ডলারের।ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন গম উৎপাদিত হয়। দেশটির প্রধান গম উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও গুজরাট।
