লর্ডস টেস্টে স্বাগতিকদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। ম্যানচেস্টারে পরের ম্যাচেই জবাব দিতে ভুল করলেন না ইংলিশ গতিতারকারা। দলের সবচেয়ে বড় তারকা জিমি অ্যান্ডারসনের অন্যরকম সেঞ্চুরির দিনে প্রোটিয়া ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়লেন ইংল্যান্ডের পেসাররা।
বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ঘরের মাঠে ১০০ টেস্ট খেলতে নেমেছেন অ্যান্ডারসন। তার অনন্য সেঞ্চুরির ম্যাচের প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৫১ রানে। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়েই ১১১ রান করে ফেলেছে স্বাগতিকরা।
টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০০ টেস্ট খেলার রেকর্ড ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারের দখলে। তবে তিনি ঘরের মাঠে খেলেছেন ৯৪টি টেস্ট। নিজ দেশে নব্বইয়ের বেশি টেস্ট খেলা অন্য দুই ক্রিকেটার হলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিং (৯২) ও অ্যান্ডারসনের স্বদেশি স্টুয়ার্ট ব্রড (৯১)।
পন্টিং ও টেন্ডুলকার অবসর নিয়ে নিলেও, এখনও খেলে চলেছেন ব্রড। ফলে অ্যান্ডারসনের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ঘরের মাঠে ১০০ টেস্ট খেলার সুযোগ রয়েছে ব্রডের সামনে। অবশ্য প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ঘরের মাঠে ১০০ টেস্ট খেললেও, ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড অ্যান্ডারসনের নয়।
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন ঘরের মাঠে মাত্র ৭৩ টেস্ট খেলে শিকার করেছেন ৪৯৩টি উইকেট। ম্যানচেস্টার টেস্ট শুরুর আগপর্যন্ত দেশের মাটিতে অ্যান্ডারসনের নামের পাশে ছিল ৪২০ উইকেট। এছাড়া আর কোনো বোলারের ঘরের মাঠে ৪০০ উইকেট নেওয়ার নজির নেই।
অ্যান্ডারসনের এই সেঞ্চুরি হাঁকানোর ম্যাচে ইংলিশ পেসারদের সামনে অসহায় দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মোটে ৫৩.২ ওভার খেলতে পেরেছে তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন নয় নম্বরে নামা ডানহাতি পেসার কাগিসো রাবাদা।
ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যান্ডারসন ও ব্রড। এছাড়া অধিনায়ক বেন স্টোকসের শিকার দুইটি উইকেট।পরে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটাও ভালো ছিল না। মাত্র ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে জ্যাক ক্রলি (৭৭ বলে ১৭) ও জনি বেয়ারস্টোর (৪৫ বলে ৩৮) ৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে স্বস্তি নিয়েই দিন শেষ করে স্বাগতিকরা।
