টানা তিনদিন দাম কমার পর হঠাৎ করে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। সোমবার পাইকারি বাজারে কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। এর আগে টানা তিনদিনে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছিল। ভারত থেকে আসা বেশিরভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। সেই সঙ্গে খুচরা বাজারে দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের পেঁয়াজ গতকালের দামে বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য পাইকারিতে দাম কমার পরও গত দু’দিন খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছিল।গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে দেশের বাজারে অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের দাম। ৬০ টাকার দেশি পেঁয়াজের দাম মঙ্গলবার ১১০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। আর পাইকারিতে ৫০ টাকা থেকে বেড়ে পেঁয়াজের কেজি হয় ৮৫ টাকা। কোনো কোনো পাইকার ৯০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ বিক্রি করেন। এমন দাম বাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে ভোক্তাদের মধ্যে বাড়তি পেঁয়াজ কেনার হিড়িক পড়ে যায়।
তবে রোববার থেকেই সংবাদ আসতে শুরু করে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের বেশিরভাগই নষ্ট। এরপর রাত পার না হতেই সোমবার পাইকারি বাজারে আবার দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। অবশ্য আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজধানীতে পেঁয়াজের সব থেকে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকা, যা গতকাল ছিল ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা। অপরদিকে আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ গতকালের মতো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। তবে নষ্ট আমদানি করা পেঁয়াজ কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৪০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করছেন।
রাজধানীর আরেকটি পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার। এ বাজারে শ্যামবাজার থেকে একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। বাজারটির ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ ৭২ থেকে ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
অপরদিকে বিভিন্ন খুচরা বাজার খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত দু’দিনের মতো আজও দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আর আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
‘ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় দাম কিছুটা বাড়লেও এবার পেঁয়াজের বাজার গত বছরের মতো অস্বাভাবিক হবে না। আমাদের ধারণা, এখন যে দাম আছে মোটামুটি এই দামই স্থিতিশীল থাকবে। হয়তো ৫-১০ টাকা এদিকে সেদিক হবে। আর যদি ভারত নতুন করে ফ্রেশ মাল দেয়, তাহলে দাম কমে যাবে।’
শ্যামবাজারের আজমীর ভান্ডার আড়তের বিক্রিয়কর্মী মো. টুকু বলেন, আড়তে পেঁয়াজের বিক্রি একেবারেই নেই। ভারত রফতানি বন্ধ করার পর দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ বাড়তি পেঁয়াজ কিনে মজুত করেছে। এই মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি পরিস্থিতি এমন থাকবে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। ভালো মানের আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৫০ টাকা। আর নিম্নমানের নষ্ট পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ভারত যে পেঁয়াজ ছেড়েছে, ওই পেঁয়াজ এখনো শ্যামবাজারে আসেনি। তবে শুনছি, ওই পেঁয়াজের বেশিরভাগ নষ্ট। যদি এটি সত্য হয় তাহলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যেতে পারে। তখন দাম কিছুটা বাড়তে পারে।’
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নোয়াব আলী বলেন, ‘দেশি ও আমদানি উভয় ধরনের পেঁয়াজ আমরা গতকালের দামে বিক্রি করছি। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকা। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। তবে বাজারের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ শোনা যাচ্ছে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ নষ্ট, যা বিক্রির উপযোগী না।’
এদিকে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের কেজি ৯০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হেচ্ছে ৭০ টাকা। এই দামে গত তিনদিন ধরে বিক্রি করছি। শ্যামবাজার থেকে বুধবার যে পেঁয়াজ এনেছিলাম, সেই পেঁয়াজ এখনো বিক্রি করছি। গত কয়েকদিন শ্যামবাজারে যায়নি। এই মাল শেষ হলে তারপর যাব।’
বাড্ডায় ভ্যানে ৯০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা মিলন বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম আর কমার সম্ভাবনা কম। কারণ পাইকারদের মুখে যা শুনছি, তাতে মনে হয় কয়েকদিনের মধ্যে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাবে। তবে আমদানি করা নিম্নমানের পেঁয়াজ কিছুটা কম দামে পাওয়া যেতে পারে। যার বেশিরভাগ নষ্ট।’
