Homeজাতীয়শ্যামপুর প্যাকিং হাউজের সুফল পাচ্ছে কৃষক

শ্যামপুর প্যাকিং হাউজের সুফল পাচ্ছে কৃষক

বাংলাদেশ থেকে এখন ৫২ ধরনের সবজি যাচ্ছে ইউরোপে। ফল যাচ্ছে ৪২ ধরনের। তবে ওই বাজারে পণ্য পাঠাতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্তানুযায়ী ‘গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস বা গ্যাপ’ অনুসরণ করে পাঠাতে হয়। সেজন্য কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করতে হয়। এরপর আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে প্যাকেজিংয়ের পরে সেটি রপ্তানিযোগ্য হয়। এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দিচ্ছে রাজধানীর শ্যামপুরের সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজটি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত মেনে পণ্য রপ্তানি বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ ফাইটোসেনেটারি সামর্থ শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প ব্যস্তবায়ন করেছে। এরমধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর শ্যামপুরে সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজ নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ১৬ মে ইউরোপে আম রপ্তানির জন্য এই ল্যাব আংশিক চালু করা হয়েছিল। তবে দক্ষ জনবলের অভাবে কোনোমতে চলছিল ল্যাবের কার্যক্রম।পরে ২০২১ সালের জুন থেকে ১৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প হাতে নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে এখন ল্যাবে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় সব ধরনের প্যাকিং সুবিধা চালু হয়েছে। সঙ্গে বেড়েছে রোগ-বালাই শনাক্তকরণে পরীক্ষার পরিধিও।

এই প্রকল্পের পরিচালক ড. জগত চাঁদ মালাকার জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে স্থাপিত এই ল্যাবটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রায় সিংহভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্যাকিং হাউজের কাজ শেষ হওয়ার কথা। সবকিছু ঠিক থাকলে এর আগেই সেটি শেষ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজের ল্যাব টেস্টের ওপর বিদেশের বাজার অনেকটা নির্ভর করছে। ফলে সব কাজ অত্যন্ত যত্ন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাসহ মোট ১৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে প্রকল্প থেকে। আগের যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল যা রয়েছে, সেগুলোও এই ল্যাবে যুক্ত হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম এবং পেঁপে উৎপাদনে তৃতীয়। দেশে বছরে সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন এবং ফল উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন।

অন্যদিকে নিয়ম মেনে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপের দেশগুলোতে ফল ও সবজি রপ্তানি হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইউরোপে সবজি রপ্তানি হয়েছে ১ একহাজার ৩০৭ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯১৩ টনে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে হয়েছে ১ হাজার ২০৭ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফল রফতানি হয় ১ হাজার ২০৩ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা হয়েছে ৩ হাজার ১৯৯ টন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে তা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৯ টন। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। মোট ৫২ ধরনের সবজি যাচ্ছে ইউরোপে। আর ফল যাচ্ছে ৪২ ধরনের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্যামপুরে সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজটিতে সালমোনেলাসহ যে কোনো ধরনের দূষণ, কীটনাশকের রেসিডিউ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ রয়েছে কি না বিভিন্ন ধরনের এমআরএল পরীক্ষা করা যাবে। এছাড়া আগে থেকে চালু থাকা মাইকোলজি, ব্যাকটেরিওলজি, ভাইরোলজি, নেমাটোলজি, মাইক্রোবায়াল পরীক্ষার পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।রাজধানীর অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে শ্যামপুরে করা হয়েছে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ। এরই মধ্যে সেখানে খুলনা, যশোর, নরসিংদী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, যশোর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের সবজি ও ফল এনে পার্কিং করা হচ্ছে। এতে কৃষিপণ্য রপ্তানি ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি সহজ হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments