ভারতের ফুটবলপ্রেমী শহর কলকাতায় লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন দর্শকরা। বছরের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন হিসেবে প্রচার করা এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে এক নজর দেখতে হাজারও ভক্ত ভিড় করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চরম হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে তাদের।
কলকাতায় মেসির আগমন ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা থাকলেও অনুষ্ঠানে ঢুকে অনেক দর্শকই প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীরা মেসিকে ঘিরে রাখায় সাধারণ দর্শকরা একেবারেই বঞ্চিত হন। অনুষ্ঠানে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের উপস্থিতির ঘোষণাও থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি, যা দর্শকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।একজন ক্ষুব্ধ মেসি-ভক্ত বলেন, ‘পুরো আয়োজনটাই ছিল চরম বিশৃঙ্খল। ব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ছিল একেবারেই জঘন্য। আমরা সবাই ফুটবল ভালোবাসি, মেসিকে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এটা ছিল স্পষ্ট প্রতারণা। আমরা টাকা ফেরত চাই। কলকাতা ফুটবলের শহর, আমরা আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসি। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমাদের গভীরভাবে আহত করেছে। মন্ত্রীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে মেসির পাশে ছিলেন, আর সাধারণ মানুষ কিছুই দেখতে পায়নি।’আরেক দর্শক অভিযোগ করেন, ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের ভিড়ে মেসিকে দেখাই সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল পাঁচ হাজার রুপি। তাহলে কেন ভিভিআইপিরা সারাক্ষণ মেসির পাশে থাকবে? আমরা একবারের জন্যও তাকে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। পুলিশ বা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সবাই ক্ষুব্ধ। আমরা টাকা ফেরত চাই।’
তৃতীয় এক দর্শক বলেন, ‘ভয়াবহ আয়োজন। তিনি (মেসি) মাত্র ১০ মিনিটের জন্য এসেছিলেন। সব নেতা ও মন্ত্রী তাকে ঘিরে রেখেছিলেন। আমরা কিছুই দেখতে পাইনি। তিনি একবারও বল স্পর্শ করেননি, কোনো শট বা পেনাল্টিও নেননি। এত টাকা, সময় আর আবেগ নষ্ট হয়ে গেলো।’টিকিটের টাকা ফেরত চেয়ে আরেক দর্শক বলেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি প্রতারণা। এত বিশৃঙ্খলা আগে কখনো দেখিনি। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।’ অন্য একজন বলেন, ‘এত টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মেসিকে এক ঝলকও দেখা গেল না। তিনি শুধু দুইবার হাত নেড়ে চলে গেলেন।’আরেক ক্ষুব্ধ দর্শক বলেন, ‘আমরা বিপুল টাকা খরচ করেছি শুধু মেসিকে দেখার জন্য। কিন্তু এই আয়োজনের মাধ্যমে তার কাছে কী বার্তা গেলো? মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তোলা আর ভিড় সামলাতেই পুরো সময় চলে গেছে। এটি আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
