৪৮ দিন পরে দ্বিতীয় বারের চেষ্টাতেও হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার পর শুক্রবার রাত ৯টার দিকে যাত্রা করে জাহাজটি। তবে হরমুজের কাছাকাছি গিয়েও ইরানি কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় ফের পারস্য উপসাগরে আগের অবস্থানে ফিরে গেছে জাহাজটি।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, ‘বাংলার জয়যাত্রা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল কিন্তু পরবর্তী সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় পুণরায় ফিরে গেছে।’মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর জাহাজটি প্রায় ৪৮ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বন্দরে অবস্থান করে। সর্বশেষ সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার লোড করে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার কথা ছিল। হরমুজ বন্ধ থাকায় জাহাজটি রাস আল খায়ের বন্দরে আটকে পড়ে। পরে আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে গত ৮ এপ্রিল জাহাজটি কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রাস আল খায়ের ত্যাগ করে। ১০ এপ্রিল শুক্রবার জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছে ট্রান্সজিট ক্লিয়ারেন্স চাইলে ইরানি কর্তৃপক্ষের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। পরে কাছাকাছি মিনা সাকার বন্দরের অ্যাংকরে নিরাপদ অবস্থানে নোঙর ফেলে জাহাজটি।বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরে এটি কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকান ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। এরমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইরান।
গত ১১ মার্চ জাবেল আলীতে পণ্য খালাসের পর জাহাজটি পরবর্তী ভয়েজের জন্য কুয়েতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৩ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার কেউটাউনে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে সেটি।
