Homeআন্তর্জাতিকশান্তি স্থাপনে পাকিস্তানকে নতুন প্রস্তাব দিলো ইরান, অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

শান্তি স্থাপনে পাকিস্তানকে নতুন প্রস্তাব দিলো ইরান, অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পাকিস্তানের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার (১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি ( ইরানা) এই তথ্য জানিয়েছে।ইরানের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাকিস্তানের কাছে এই নতুন খসড়া প্রস্তাব হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে, ইরানের প্রস্তাবে খুশি নন বলে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যে কোনো চুক্তি করার ক্ষেত্রে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাবে এমন কিছু দাবি আছে যা তিনি মেনে নিতে পারবেন না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ইরানের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি রয়েছে।এর পাশাপাশি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপও একটি বিকল্প। তবে তিনি বড় ধরনের হামলা চালাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অতিরিক্ত চাপ, হুমকি ও উসকানিমূলক আচরণ পরিবর্তন করলে ইরান কূটনৈতিক পথে এগোতে প্রস্তুত।মার্কিন উপমুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত আমরা প্রকাশ করি না…যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পারমাণবিক কার্যক্রম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরান যেন ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাতে বা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে না পারে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে ৩৯ দিন যুদ্ধের পর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় এবং ১১–১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ান, যদিও নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশ সরাসরি সংঘর্ষ বন্ধ রাখলেও, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। ইসলামাবাদে গত মাসে এক দফা বৈঠকের পর আর কোনো নতুন বৈঠক হয়নি।যুদ্ধের ৬০ দিন হওয়ায় ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ নীতি মোতাবেক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে শত্রুতা শেষ হয়েছে এবং তাই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তার কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধীরা বলছে, এটি আইনগতভাবে সঠিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ বজায় রেখেছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments