ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রাথমিক চুক্তি এরই মধ্যে সই হয়ে গেছে ও খুব শিগগিরই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে আগামী ৬০ দিন ধরে আরও আলোচনা চলবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।সোমবার (১৫ জুলাই) জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে চুক্তিটি সই হয়েছে। সবকিছুই সই হয়ে গেছে।মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। একই দিনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি নথি ও এতে মূলত একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারিত হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নথির প্রথম অনুচ্ছেদে ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়ও রয়েছে।ভ্যান্স আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ইরান যাচাইযোগ্য উপায়ে প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সমঝোতা স্মারকটিতে এরই মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।তারা জানিয়েছেন, বুধবারের (১৬ জুন) মধ্যেই চুক্তির আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, শুক্রবারের (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের পর পুরো নথিই প্রকাশ করা হবে।তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দলিল। আমি চাই এটি প্রকাশ করা হোক। তাই খুব শিগগিরই সবাই তা দেখতে পাবে।
আরও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিচুক্তির আওতায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবে।রোববার (১৪ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় হওয়া এই অগ্রগতির মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে লেবানন থাকলেও সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত নয়। ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে। সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েল যে নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা মোতায়েন থাকবে। তিনি আরও বলেন, কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগে লেবাননের গণমাধ্যম দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর দেয়। জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সুত্র: বিবিসি
