Homeআন্তর্জাতিকইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’, বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’, বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।শনিবার (২৩ মে) ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক এবং ‘সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের’ চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দেন। এছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তিনি আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে জানান।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এটি ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তার দেশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ইসলামাবাদেই খুব শিগগির পরবর্তী মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক বিবৃতিতে চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যে কোনো চুক্তির ফলেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত হবে। তবে এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।অন্যদিকে মিশরের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে এই কূটনৈতিক সুযোগের সদ্ব্যবহার করে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘোষণার কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি ইরানে ফের হামলা শুরুর একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরানে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ সফর শেষ করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিবৃতি দেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ‘উত্সাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।অবশ্য তেহরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বরাবরই সতর্ক ও সন্দিহান। কারণ এর আগে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই ইরান দুইবার মার্কিন সামরিক হামলার শিকার হয়েছিল।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। তবে ৮ এপ্রিলের পর থেকে হাতেগোনা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি অনেকটাই থমকে আছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে, আর এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

সুত্র: আল জাজিরা

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments