জার্মান বুন্দেসলিগার শেষ ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। এবার ক্লাবের হয়ে মৌসুমের একেবারে শেষ ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। টানা দুটি হ্যাটট্রিক। এবারের হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন হলো বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান কাপের ফাইনালে স্টুটগার্টকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতলো বাভারিয়ানরা। শনিবারের ফাইনালে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে ঘরোয়া ডাবলও পূর্ণ করলো বাভারিয়ান জায়ান্টরা।গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন স্টুটগার্টকে হারিয়ে ২০০০ সালের পর প্রথমবারের মতো জার্মান কাপ ও বুন্দেসলিগা- দুটি শিরোপাই একসঙ্গে জিতলো বায়ার্ন। এর আগে ২০০০ সালে বায়ার লেভারকুসেনকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষবার ডাবল জিতেছিল তারা।ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর মাঠে উত্তেজনা ছড়ায় গ্যালারিতেও। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে দুই দলের সমর্থকরাই ব্যানার প্রদর্শন করেন।বায়ার্ন সমর্থকরা বিশাল ডিএফবি লোগোর ওপর কাটা চিহ্ন এঁকে ব্যানার টানান, যেখানে ফেডারেশনবিরোধী স্লোগানও ছিল। অন্যদিকে স্টুটগার্ট সমর্থকদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ফ্রিডম ফর দ্য টেরেসেস।’ এরপর দুই প্রান্ত থেকেই শুরু হয় আতশবাজি ও পাইরোটেকনিক প্রদর্শনী। ধোঁয়ায় পুরো মাঠ ঢেকে যায়।এই পরিস্থিতির মধ্যেই ৫৫ মিনিটে ম্যাচের জট খোলেন হ্যারি কেইন। মাইকেল অলিসের ক্রস থেকে ডাইভিং হেডে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। গোলের পর আবারও আতশবাজিতে ভরে যায় গ্যালারি। ধোঁয়ার কারণে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধও রাখতে হয়।এরপর বায়ার্ন আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। লুইজ দিয়াজ বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শট নিলে স্টুটগার্ট গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার ন্যুবেল তা ঠেকালেও ফিরতি বলে প্রায় খালি পোস্ট পেয়েও গোল করতে পারেননি কনরাড লাইমার।জামাল মুসিয়ালার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পরে কেইনের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে দ্বিতীয় গোল পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বায়ার্নকে।
দিয়াজের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে চেমা আন্দ্রেসকে কাটিয়ে বক্সের মাঝখান থেকে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। এতে ম্যাচ কার্যত বায়ার্নের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।ম্যাচের শেষদিকে আরও একটি গোল যোগ করেন কেইন। মাইকেল অলিসের ক্রস স্টিলারের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। সেখান থেকে নির্ভুল শটে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ইংলিশ অধিনায়ক।এই মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে কেইনের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ৬১ টিতে। বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ, সুপার কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে এই গোল করেছেন তিনি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই বুন্দেসলিগা শিরোপাও চার ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছিল বায়ার্ন।
ম্যাচ শেষে হ্যারি কেইন বলেন, ‘এ বছর নকআউট ম্যাচগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি অনেক পরিস্থিতিতে দলকে সাহায্য করতে পেরেছি, আবার দলও আমাকে সাহায্য করেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনালের আগে আমি অনুভব করছিলাম, দলকে জেতানোর দায়িত্ব আমারও। আমি জানতাম সুযোগ পাবো, আজও পেয়েছি। ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। এটা এমন স্মৃতি, যা সারাজীবন মনে থাকবে।’দলের ঐক্যের প্রশংসা করে কেইন বলেন, ‘দল হিসেবে এমন একটা বিশ্বাস তৈরি করেছি যে, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি। ভালো সময়, খারাপ সময়- সবসময় আমরা একসঙ্গে থাকি।’তিনি যোগ করেন, ‘আজও সেটা দেখা গেছে। আমি গোল করি কিংবা ইয়োনাস বল বাঁচায়- প্রত্যেকেরই নিজস্ব মুহূর্ত আছে। আর আমরা সবকিছু একসঙ্গেই করি।’
