বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মরক্কোর জমাট রক্ষণ আর দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে যখন পরাজয়ের শঙ্কা জাগে সেলেসাও শিবিরে, ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিজের ক্যারিয়ারের এক স্মরণীয় মাইলফলকের রাতে জাদুকরী পারফরম্যান্সে দলকে নিশ্চিত হারের হাত থেকে বাঁচালেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। ভিনির জাদুতে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সেলেসাও জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর নিজের সুবর্ণ জয়ন্তীর ম্যাচটিতেই দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল চেনা ছন্দে খেলতে পারছিল না। মরক্কোর ফিজিক্যাল ফুটবল আর হাই-প্রেস মেকানিজমের কাছে বারবার বাধা পাচ্ছিলেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা।উল্টো প্রথমার্ধে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেয় আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস। পঞ্চাশতম ম্যাচে পেলেন ব্রাজিলের জার্সিতে দশম গোল। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে না পারলেও মাইলফলকের রাতটি রাঙালেন দলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। তবে মরক্কোর রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দেয়াল ভাঙা অসম্ভবই থেকে গেছে। দ্বিতীয় গোল আদায় করে জিততে না পারলেও ‘ভিনিসিয়ুস জাদুতে’ হার এড়ায় ব্রাজিল। দেশের হয়ে ৫০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক ছোঁয়ার রাতে দলকে বাঁচিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্স সমর্থকদের কিছুটা চিন্তায় ফেললেও, ভিনির এই অতিমানবীয় ফর্ম স্বস্তি দিচ্ছে কোটি ভক্তকে। পরবর্তী ম্যাচে পুরো ৩ পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে সেলেসাওরা।
