Homeখেলাধুলাপ্রথম টি-টোয়েন্টিতে হার বাংলাদেশের

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হার বাংলাদেশের

ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে ক্রিকেট ম্যাচে দর্শক হবে তো! বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বেশ আলোচনা হয়েছে এসব নিয়ে। তবে চট্টগ্রামের দর্শকরা হতাশ করেননি, বেশ ভালো সংখ্যায় গ্যালারিতে এসেছেন তারা।সকালে আর্জেন্টিনার জয় ও মেসির হ্যাটট্রিক দেখা দর্শকদের বেশিরভাগের গায়েই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি। তবে স্বপ্নের মতো সকাল শুরু হওয়া এই দর্শকদের জন্য দুঃস্বপ্ন উপহার দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে অসি স্পিনারদের বিলিয়ে দিয়েছেন নিজেদের উইকেট। যেখানে কিনা সর্বোচ্চ ৩২ রানের জুটি এসেছে মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদীর একাদশম জুটিতে। এতে পুঁজিটাও বড় হয়নি, অস্ট্রেলিয়াও জয় পেয়েছে সহজেই।বুধবার চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এ জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা টাইগাররা ১ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে ১০ বল হাতে রেখেই জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন শরিফুল ইসলাম। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন জস ইংলিস। ৫ বলে এক চারে ৫ রান করেন তিনি। এরপর উইকেটে এসেই দুই চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন কুপার কনোলি। প্রথম ৩ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১ উইকেটে ২৮।পঞ্চম ওভারে অধিনায়ক মিচেল মার্শ ফেরেন মোস্তাফিজের শিকার হয়ে। বাঁ-হাতি এই পেসারের বলে শর্ট থার্ড ম‍্যানে ধরা পড়লেন মার্শ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে স্কয়ার ড্রাইভ খেলতে চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। ঠিকঠাক লাইনে যেতে পারেননি তিনি, ব‍্যাটের কানায় লেগে ক‍্যাচ যায় শরিফুল ইসলামের হাতে। ১৪ বলে দুই চারে ১৩ রান করেন মার্শ।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লে শেষে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন কুপার কোনোলি। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা এই বাঁ-হাতি ব্যাটার ছক্কা হাঁকান রিশাদ হোসেন, আব্দুল গাফফার সাকলায়েনকেও। তবে অভিষিক্ত সাকলায়েনকেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অনেক ধরা পড়েন কোনোলি। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ক্যাচ শরিফুল আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেটের দেখা পান সাকলায়েন। ২৭ বলে ৪৭ রান করে আউট হন কনোলি।

কনোলি বিদায় নিলেও টিম ডেভিড রানের গতি ঠিক রাখেন। প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৮২ রান। ১২তম ওভারে টিম ডেভিডকে ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদী। এই অফ স্পিনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২০ রান। ৮৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।এরপর অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরী ও ম্যাট রেনশ মিলে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন। জয় থেকে ১৬ রান দূরত্বে রিশাদের শিকার হয়ে ফেরেন নিখিল। এর আগে করেন ১৩ বলে ১৮ রান। ১৩ রানের ব্যবধানে ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় শিকার ধরেন সাকলায়েন। রেনশর ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। এক বল পরই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অসিরা।

এর আগে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ১৯ ওভারে ১৩১ রান তুলে অলআউট হয়ে যায়। প্রথম ২ ওভারে ১৮ রান তোলা বাংলাদেশ তৃতীয় ওভারে হারায় প্রথম উইকেট। জনসনের বলে কাভারের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তানজিদ তামিম, কিন্তু টাইমিংটা ঠিকঠাক হয়নি। ক্যাচ গেছে বার্টলেটের হাতে। ফেরার আগে করেন ৯ বলে ১০ রান। পরের ৬ ওভারে আরও ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।পঞ্চম ওভারে ম্যাট রেনশর বলে তুলে মারতে গিয়ে মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৪ বলে ২০ রান করা সাইফ হাসান। এরপর নিজের টানা দুই ওভারে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও সৌম্য সরকারকে তুলে নেন অ্যাডাম জাম্পা। ৭ম ওভারে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন হৃদয়, আর ৯ম ওভারে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন সৌম্য।এরপর পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম পাটোয়ারীরাও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। বাঁ-হাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিয়েসের বলে মিডউইকেট বাউন্ডারিতে কনোলিকে ক্যাচ দিয়েছেন ইমন। ফেরার আগে ১২ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১০ রান করেছেন তিনি।

আর ম্যাট রেনশর বল জায়গা বানিয়ে কাভারের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন শামীম। বল ব্যাটে লেগে বলা জমা হয়েছে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ। ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪ বলে ১ রান করেছেন শামীম। ১১ থেকে ১৩, টানা তিন ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ।ইমন ও শামীমের পর সাকলায়েন। ডেভিয়েসের বল তুলে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়েছেন আজই প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা এই বোলিং অলরাউন্ডার। তার আগে করেছেন ১ ছক্কায় ১০ বলে ১০ রান।এরপর রিশাদ হোসেনকে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন শেখ মেহেদী। তবে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে রিশাদ লং অফে আউট হয়ে গেলে তাদের জুটি বড় হয়নি। ফেরার আগে করেন ৩ রান।এরপর উইকেটে এসে নিজের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলের রান একশ পূর্ণ করেন শরিফুল ইসলাম। তিনিও আটকে গেছেন আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে। এরপর ১৯তম ওভারের শেষ বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন মোস্তাফিজুর রহমান। আর ২২ বলে ৪ চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments