আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিকল্পনা চলতি সপ্তাহে বাস্তবায়িত হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে ইসরায়েলি বাহিনী যোগ দিতে পারে বলে জানা গেছে।তবে, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি বলে শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন। এর আগে সম্ভাব্য এ হামলার খবর প্রথম প্রকাশ করে সিবিএস নিউজ এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় নতুন মার্কিন বোমা হামলার উদ্দেশ্য হবে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
এ ধরনের হামলায় বহু সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনীও অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সংঘাত আরও তীব্র হলে ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।শুক্রবার (৩১ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। একপর্যায়ে তারা বলবে, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি হামলা চালাবে, ইরান তত দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধ ভেঙে যাবে।হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অ্যাক্সিওসকে বলেন, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে এবং তার প্রেসিডেন্সির সময় ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান খুবই আগ্রাসী আচরণ করছে। তার ভাষায়, ইরান কতটা উত্তেজনা বাড়াতে প্রস্তুত, তা দেখে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা বিস্মিত হয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, বুধবার জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরও হামলা চালিয়েছে। তবে, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে ইরান।এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো-এমনকি তেহরানের ভেতরের স্থাপনাগুলোতেও মার্কিন হামলা চালানো হবে।অন্যদিকে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা ‘উন্মাদনার শামিল’ হবে।ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘জায়নিস্ট শাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্থাপনায় হামলাসহ বিস্তৃত পাল্টা জবাবের পরিকল্পনা আমরা প্রস্তুত করেছি এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।’
