গ্রীষ্মের দলবদলে যাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোডি গাকপোর গোলে টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছে লিভারপুল।অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় লিভারপুল। প্রথমার্ধে ২১ মিনিটে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। গাকপোর পাস থেকে বল পেয়ে ডেস্টিনি উডোগির ট্যাকলের পর ছুটে আসা বল বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।প্রথমার্ধে অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল টটেনহ্যাম। মোহাম্মেদ কুদুস মাত্র চার গজ দূর থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। লিভারপুলের গোলরক্ষক জর্জিও মামারদাশভিলিও কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫৪ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করে লিভারপুল। ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস থেকে বল পেয়ে গাকপো ডান পায়ে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। গত মৌসুমে সমালোচনার মুখে পড়া দুই খেলোয়াড়ই এদিন দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।তবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় টটেনহ্যাম। ৬৯ মিনিটে কর্নার থেকে কনর গ্যালাগার হেড করে একটি গোল শোধ দেন। এই গোলে মামারদাশভিলির কিছুটা ভুল ছিল, কর্নার থেকে বল মুঠোবন্দি করতে ব্যর্থ হন তিনি।
এরপর টটেনহ্যাম সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ালেও লিভারপুলের রক্ষণ সামলে যায়। মামারদাশভিলি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের লিড ধরে রাখেন।শেষদিকে টটেনহ্যামের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা পুরোপুরি শেষ করে দেন বদলি হিসেবে নামা দোমিনিক সোবোসলাই। যোগ করা সময়ে গাকপোর পাস থেকে বল তুলে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার। তার গোলেই ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিভারপুল।এই ম্যাচে লিভারপুল ১০টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। তরুণ লুইস কুমাস ও জেমস ম্যাককনেলের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্সও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে টটেনহ্যামের শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিপক্ষে জয়হীনতার ধারা অব্যাহত থাকল। অ্যানফিল্ডে তাদের দুঃস্বপ্নও আরও দীর্ঘ হলো। লিভারপুলের মাঠে শেষ ৩১ সফরে মাত্র একবার জিতেছে তারা, আর অ্যানফিল্ডে শেষবার জয়ের পর পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর।এদিকে ম্যাচটি ছিল অ্যান্ডি রবার্টসনের অ্যানফিল্ডে ফেরার প্রথম ম্যাচও। তবে সাবেক লিভারপুল অধিনায়কের প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত জয়ে রাঙাতে পারেনি টটেনহ্যাম।


