Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি। ওই প্রস্তাবে ‘যুদ্ধবিরতি’র কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদি’র তেহরান সফরে এ বার্তার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।প্রতিবেদনের তথ্য মতে, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরই ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এই তেহরান সফর হয়। আল-জায়েদি ট্রাম্পের ওই প্রস্তাব তেহরানে নিয়ে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও একই সময়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছিলেন ট্রাম্প।তবে, নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ দাবি অস্বীকার করেছে ইরাক সরকার। কিন্তু তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, আলি আল-জাইদি সত্যিই একটি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন।যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, এটাই ছিল একমাত্র প্রস্তাব। তবে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন অমীমাংসিত রেখে কোনো অস্থায়ী চুক্তিতে তেহরানের আগ্রহ নেই।স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আল-জাইদি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে যান। এ সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান আলোচক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ইরান ও ইরাকের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, আলি আল-জাইদি ওয়াশিংটন সফরের ‘নিজস্ব মতামত ও অভিজ্ঞতা’ তেহরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য মধ্যস্থতাকারীর অভাব নেই। সমস্যা বার্তা পৌঁছানো নয়; সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি, যা অযৌক্তিক, লোভী এবং নিয়ন্ত্রণমূলক।’গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।দুই ইরানি কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প যদি তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমনটি হলে ইরান তেল আবিবে হামলা চালাতে পারে এবং ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করতে বলতে পারেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments