Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে নিষেধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ

ট্রাম্পকে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে নিষেধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলো একের পর এক আলোচনায় বসছে ও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যত দেশটির শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার (১ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন বড় ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং আরেকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে ইরানের অব্যাহত বিঘ্ন সৃষ্টির জবাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। তবে তিনি এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের হামলা হলে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ নজিরবিহীনভাবে আরও বিস্তৃত হতে পারে। এই সময়ে ট্রাম্প একাধিকবার আলোচনার সুযোগ তৈরি করলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সংঘাত আবারও শুরু হয়েছে।এদিকে, ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে।ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানায়, সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে উত্তেজনা না বাড়ানোর এবং নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস।এর আগে বুধবার সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।

জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের পর সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরসূচিতে ট্রাম্পের সঙ্গে এই বৈঠক যুক্ত করা হয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে প্রিন্স খালিদ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে জানান, সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে।সূত্রটির ভাষ্য, ওই বৈঠকগুলোর উদ্দেশ্য ছিল ইরান যুদ্ধ এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে এমবিএসের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরা।উল্লেখ্য, একই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকের মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একটি সৌদি আরব। গত পাঁচ মাসে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ট্রাম্পের ইরান নীতিতে রিয়াদ প্রভাব ফেলেছে।শুধু সৌদি আরব নয়, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় পক্ষের ওপর উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ বাড়িয়েছে।শনিবার (১ আগস্ট) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

একই দিনে তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন আরাগচি।নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ কিংবা এ ধরনের অভিযানে আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ বা সহযোগিতার জবাব ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সিদ্ধান্তমূলক ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দেবে।এদিকে, হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার (১ আগস্ট) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা পৃথকভাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ওমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ।আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সেটি চলমান সংকট নিরসনের জন্য যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সুত্র: অ্যাক্সিওস

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments