Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন- এমন বিদেশিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এটিকে ওয়াশিংটনের অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযানের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, যারা স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে ভিজিটর হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তাদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হবে।তবে এ প্রক্রিয়ায় ঠিক কতটি ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ব্যবসা ও পর্যটন ভিসাধারী সর্বোচ্চ দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একক কোনো পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে। এপি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।এপি আরও জানায়, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা তথাকথিত বি-১ ও বি-২ ভিসা বাতিল করা হতে পারে, যদি এসব ভিসাধারী ব্যক্তি এরই মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন করে থাকেন বা বর্তমানে আশ্রয় চেয়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকেন। বি-১ ও বি-২ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যা মূলত ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।

তবে ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে বিচারাধীন, তাদের অধিকাংশকে নতুন একটি আইনি শ্রেণিতে পুনর্বিন্যস্ত করা হবে। তবে তারা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তি হিসেবে তাদের আগের ভিসার মর্যাদা হারাবেন।সোমবারের (২৪ আগস্ট) শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভিত্তিহীন আশ্রয় আবেদনে’ বিপর্যস্ত।চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অভিযানের মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি ব্যাপকহারে অভিবাসীদের বহিষ্কারের উদ্যোগও রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।তবে অধিকারকর্মী বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, এই কঠোর অভিবাসননীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। বিশেষ করে, জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদাভাবে সন্দেহ বা নজরদারির শিকার হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের উদ্যোগও রয়েছে।ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপগুলো এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সুত্র: দ্য গার্ডিয়ান

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments