Homeজাতীয়সাক্ষরতার লক্ষ্য দক্ষতা, দক্ষতার লক্ষ্য আত্মনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী

সাক্ষরতার লক্ষ্য দক্ষতা, দক্ষতার লক্ষ্য আত্মনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ সামনে রেখে সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উত্তরণের লক্ষ্য সরকারের বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সাক্ষরতার অর্থ শুধু পড়া, লেখা ও গণনার মৌলিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, জীবনদক্ষতা, পরিবেশ-সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের উন্নয়ন, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি-এ তিনের সংযোগস্থলেই আজকের সাক্ষরতার অবস্থান। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে সরকারের শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উত্তরণ।

তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ। তাই সরকারের কাছে সাক্ষরতা শুধু নিরক্ষরতা দূর করার কর্মসূচি নয়; এটি মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই সমৃদ্ধির ভিত্তি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন শিক্ষা ও সাক্ষরতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা মানুষকে শুধু পড়তে ও লিখতে শেখাবে না, পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম করে তুলবে।

তিনি জানান, দেশে সবার জন্য কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের মেয়াদে এই বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।পাশাপাশি সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানবিক ও নাগরিক মূল্যবোধ বিকাশে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, সাক্ষরতার পরবর্তী ধাপ হবে দক্ষতা, আর দক্ষতার লক্ষ্য হবে আত্মনির্ভরতা ও কর্মসংস্থান। তাই সাক্ষরতা কার্যক্রমকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা জরুরি।

বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষাবঞ্চিত নারী ও গৃহিণীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল সাক্ষরতার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এর কোনো বিকল্প নেই।শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশু, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবেকাউকে পেছনে না রেখে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের চর্চা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা, সাক্ষরতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতার আলোকে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো, জ্ঞানের শক্তিতে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং সচেতন নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে।সবশেষে তিনি ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments