এস এম আলম, ১৩ সেপ্টেম্বর: সাঁথিয়ায় চাঞ্চল্যকর আব্দুল আজিজ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, তদন্তেপ্রাপ্ত হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ৩ জন আসামী গ্রেফতার। পাবনার সাঁথিয়ায় চাঞ্চল্যকর আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে সাঁথিয়া থানা পুলিশ। পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ প্রেস কনফারেন্সে জানান, এ ঘটনায় হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান সহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ। সকালে আনুমানিক সাঁথিয়া থানাধীন ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের একটি পুকুরের পানিতে এক ব্যক্তির মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের সময় মৃতের গলায় কাটা দাগ এবং পিঠ ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে মৃত ব্যক্তির পরিচয় আব্দুল আজিজ সরদার (৫৫), পিতা-মৃত মেকের সরদার, মাতা-মোছা, বুলবুলি খাতুন, সাং-ডাঙ্গামাঝ গ্রাম, ডাকঘর-ক্ষেতুপাড়া, থানা-সাঁথিয়া, জেলা-পাবনা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় মামলা নং-১১, তারিখ-০৯/০৯/২০২৬ খ্রি., ধারা-২০১/৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু মামলার তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ১। মোঃ সেলিম প্রাং (৪০), ২। মোঃ মুনসুর আলী (৩৪) এবং ৩। মোঃ আকাশ (২১)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সেলিম ও মুনসুর আলীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করিয়া বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এ সময় আসামী সেলিম প্রাং এর হেফাজত থেকে ভিকটিমের নিকট হইতে লুষ্ঠিত ৪,৫০০/-(চার হাজার পাঁচশত) টাকা উদ্ধার করা হয় এবং আসামী আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ভিকটিম আব্দুল আজিজ সরদার (৫৫) ছোট পরিসরে পিয়াজের ব্যবসা করতেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তিনি সব সময় টাকা-পয়সা নিজের কাছে পরিহিত লুঙ্গির কোচরে রাখতেন। আসামীগণ ভিকটিম আব্দুল আজিজ সরদারের প্রতিবেশী। আসামীগণ ভিকটিমের কাছে টাকা থাকার বিষয়টি জানতেন। ভিকটিম আব্দুল আজিজের কাছে থাকা টাকা নেয়ার জন্যই গত ইং ০৭/০৯/২০২৬ তারিখ রাত্রি ০৯.৩০ ঘটিকার সময় তাকে হত্যা করে তার কাছে থাকা ব্যবসায়ীক টাকা নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত টাকা আসামীগণ ভাগাভাগি করে নেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী সেলিমের কাছ থেকে লুষ্ঠিত টাকার মধ্যে ৪,৫০০/-(চার হাজার পাঁচশত) টাকা উদ্ধার করা হয়। সেলিম জানায় যে, সে তার ভাগে ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকা পেয়েছিল: যার মধ্যে সে ১৫০০/- (একহাজার পাঁচশত) টাকা খরচ করেছে। আসামী মুনসুরও ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকা ভাগে পেয়েছিল সে টাকা তার পারিবারিক কাছে খরচ করেছে। তদন্তে জানা যায় যে, আসামী আকাশ ৪,০০০/-(চার হাজার) টাকা ভাগে পায়। অবশিষ্ট টাকা পলাতক আসামী নিয়ে পালিয়ে যায়। পলাতক আসামি গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।



