পোশাক শিল্পকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।তিনি বলেছেন, বিজিএমইএ থেকে শিল্পের জন্য সময়োচিত প্রতিশ্রুতিগুলো প্রদানের জন্য বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ও তার বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের উন্নয়নের লড়াইয়ে বিজিএমইএ সরকারের পাশেই রয়েছে। পোশাক শিল্পকে আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীকে সামনে রেখে ও জাতির পিতার ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিজিএমইএ সরকারের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘গো হিউম্যান গো গ্রিন’ উদ্যোগের আওতায় সাতটি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিজিএমইএ’র সাতটি প্রতিশ্রুতি উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ-এর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন।
যে সাতটি ক্ষেত্রের জন্য বিজিএমইএ প্রতিশ্রুতির ঘোষণা করেছে, সেগুলো হলো- শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য শিক্ষা; শ্রমিক ভাইবোনদের সন্তানদের প্রাক শৈশব শিক্ষা; মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন; আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম (সাসটেইনেবিলিটি), ফ্যাশন বিশ্বে রফতানি পণ্যে ঐতিহ্য উপস্থাপন; শ্রমিক ভাইবোনদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা এবং দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশ। বিজিএমইএ’র এই প্রতিশ্রুতিগুলোর মূল লক্ষ্য হলো পোশাক শিল্পের প্রাণ শ্রমিক ভাইবোনদেরকে সহায়তা করা ও সেই সঙ্গে একটি আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত ও জীবন উপযোগী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক প্রতিশ্রুতিগুলোর বিষয়ে বলেন, পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বর্তমানে মোট ৭০ জন নারী কর্মী সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রোগ্রামের অধীনে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। এছাড়া কারখানার ডে কেয়ারে থাকা শ্রমিকদের শিশু সন্তানদেরকে অনলাইন শিক্ষা প্রদানের জন্য বিজিএমইএ ও জাগো ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ভালো থাকার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই বিজিএমইএ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখন শ্রমিক ভাইবোনেরা এর মাধ্যমে আবেগ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিকভাবে নিজেকে ভালো রেখে কিভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়গুলোতে অনুপ্রেরণাময়ী পরামর্শ পাচ্ছেন।
ফ্যাশন বিশ্বে রফতানি পণ্যে ঐতিহ্য উপস্থাপনে বিজিএমইএ’র প্রতিশ্রুতি বিষয়ে ড. রুবানা বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বিশ্বে যদি আমাদের নিজস্ব পদচিহ্ন এঁকে দিতে পারি, তবে সেটি হবে আমাদের এ শিল্পের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। এজন্য বিজিএমইএ থেকে রফতানি পণ্যে ঐতিহ্য (যেমন জামদানি/তাঁতবস্ত্র) অথবা জার্সিতে বাঙালির গর্ব রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে উপস্থাপন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদ ও সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
