আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সই হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ডা. বংশীধর মিশ্র।মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান।
কবে নাগাদ পিটিএ হচ্ছে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট চুক্তি করা হবে। আমরা মোটামুটি অনেক দূর এগিয়েছি। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও নেপালের ট্রেড নেগোশিয়েশন কমিটির অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে বৈঠক হবে। এরপর বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠক হবে। সেখানে পিটিএর বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। আমরা আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে সবকিছু ফাইনাল হবে। এই চুক্তির মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি আগামী মার্চে আমরা চুক্তি করতে পারব। আমাদের ২০টির মতো পণ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’এর আগে নেপাল ভুটানের সঙ্গে পিটিএ চুক্তি সই করেছে। দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে এ চুক্তি সই করতে যাচ্ছে দেশটি।
এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষিভিত্তিক পণ্যসহ শিল্প যেমন, মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে এলাচ আমরা এখন ভারত থেকে আনি। যদি নেপাল থেকে সরাসরি আনতে পারি তাহলে আরও কম দামে পাব। এছাড়া টমেটো আমাদের দেশে হয় চার পাঁচ মাস, শীত ছাড়া টমেটো হয় না। ফলে অফ সিজনে টমেটো খেতে চাইলে দাম অনেক বেশি পড়ে। কিন্তু নেপালে অনেক সময় ধরে যেমন গ্রীষ্মকালেও টমেটো হয়। সেটা আমরা চাইলে আনতে পারি। পিটিএর মধ্যে ভারত থেকে সস্তায় ফার্মাসিউটিক্যাল, সিরামিক, গার্মেন্টস পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের মতোই নেপালে ধান খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের প্রধান খাদ্যও ভাত। তারা মনে করে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে অনেক বেশি এগিয়ে আছে এবং গবেষণা করে অনেক ভালো ভালো ধানের জাত উৎপাদন করেছে। সে ধানগুলোর উৎপাদনশীলতা অনেক ভালো। তারা মনে করে এই জাতগুলো নেপালেও উৎপাদন হতে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নেপালে অনেক মসলা উৎপাদন হয়। এছাড়া সেখানে কমলালেবুও উৎপাদন হয়। তাই এগুলো নেপাল থেকে বাংলাদেশে রফতানি করতে পারে। এই মুহূর্তে নেপালের সঙ্গে যে ব্যবসা আছে তা খুবই কম। আমরা দুদেশই চেষ্টা করছি কীভাবে ব্যবসা আরও বাড়াতে পারি। দুদেশের মধ্যে রফতানি এবং কৃষিক্ষেত্রে আমরা পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি।’
বাংলাদেশ থেকে ধানের উন্নত জাত নিতে এবং কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ‘সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’ সই করতে চায় বলে দেশটির রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
