পয়েন্ট টেবিল একপাশে সরিয়ে রেখে দুই দলকে বিচার করতে বসলে কাকে সেরা বলবেন? ম্যানসিটি নাকি লিভারপুল? সত্যিই এই দুই দলকে আলাদা করা কঠিন। ডাগআউটে রয়েছেন দুই মাস্টারক্লাস কোচ পেপ গার্দিওলা এবং ইয়ুর্গেন ক্লুপ। বিশ্বসেরা দুই কোচ যেমন ডাগআউটে, তেমনি মাঠে বিচরণ বিশ্বসেরা ফুটবলারদের। ম্যানচেস্টার সিটি এবং লিভারপুল যেন তারকায় ঠাসা দুটি দল।
রোববার রাতে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামের খেলায়ও আলাদা করা গেলো না কোনো দলকে। কেউ কারো চেয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে পারেনি। দুই দলই থেকেছে সমানে সমান। ২-২ গোলে ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ম্যানসিটি এবং লিভারপুল।
সিটির হয়ে গোল দুটি করেছেন কেভিন ডি ব্রুইন এবং গ্যাব্রিয়েল হেসুস। লিভারপুলের হয়ে গোলদুটি করেন দিয়েগো জোটা এবং সাদিও মানে।ম্যাচ ড্র হওয়ার ফলে পয়েন্ট টেবিলে আগের অবস্থানই বিরাজ করছে। ৩১ ম্যাচ শেষে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকলো ম্যানসিটি। ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই অবস্থান লিভারপুলের। লিগে প্রতিটি দলের ম্যাচ বাকি এখনও ৭টি করে। শিরোপা লড়াই যে লিগের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত জারি থাকবে, তা এখনই বলে দেয়া যায়।
ম্যাচের শুরুটা ম্যানসিটিই তুলনামূলক ভাল করেছিল। লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার দুর্দান্তভাবে রাহিম স্টার্লিংকে গোল করা থেকে রুখে দেওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই, পাঁচ মিনিটের মাথায় সিটিকে এগিয়ে দেন কেভিন ডি ব্রুইন। তার শট হোয়েল মাটিপের পায়ে লাগার পর তা গোলপোস্টে জড়িয়ে যায়।তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি লিভারপুলকে। দারুণ টিম মুভের পর, ১৩ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পাস থেকে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান দিয়েগো জোটা।
তবে অলরেডরা সমতায় ফিরলেও, প্রথমার্ধে কিন্তু সিটিই ম্যাচে নিজেদের দাপট দেখাচ্ছিল। বারবার ভাঙছিল লিভারপুল রক্ষণ। ৩৬ মিনিটে কর্ণার থেকে কয়েকটি পাসের পর জাও কান্সেলোর এমনই এক রক্ষণচেরা পাসে সিটিকে পুনরায় ম্যাচে লিড এনে দেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস।প্রথমার্ধে পিছিয়েই সাজঘরে ফেরে লিভারপুল। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ৪৬ সেকেন্ডের মধ্যেই মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে নিজের ৩০তম জন্মদিনে লিভারপুলের হয়ে সমতা ফেরান সাদিও মানে।
লিভারপুলের হয়ে ম্যাচের ৬১ মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইক এক দারুণ ব্লক করে হেসুসকে দ্বিতীয় গোল করা থেকে রুখে দেন। তবে তার ৩ মিনিট পরেই স্টার্লিং লিভারপুল জালে বল জড়িয়ে দেন। দুর্ভাগ্যবশত তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
প্রথমার্ধে তুলনামূলক খারাপ ফুটবল খেলার পর দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল গোল করার অনেকগুলিই সুযোগ পায়। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ কিকে পাল্টা আক্রমণ থেকে সিটির হয়ে বদলি হিসাবে মাঠে নামা রিয়াদ মাহরেজ জয়সূচক গোলটি করার বড় সুযোগ পান। তার চিপ শট অ্যালিসনকে পরাস্ত করলেও, তা গোলবারের হালকা উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।
পেন্ডুলামের মতো এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকা ম্যাচটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়। এই ড্রয়ের ফলে লিভারপুল ও ম্যানসিটির মধ্যে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানই বহাল থাকল।প্রসঙ্গতঃ আর মাত্র সাতদিন পরে আবারও এই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হবে। তবে তা লন্ডনের ওয়েম্বলি মাঠে লিগ কাপের সেমিফাইনালে।
