পাম তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। আগামী সোমবার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। ইন্দোনেশীয় সরকারের লক্ষ্য ছিল, স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ হাজার রুপিয়ায় (প্রায় ৮৩ টাকা) নামানো। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার আগেই দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে তীব্র চাপের মুখে শেষপর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাধ্য হলো উইদোদো প্রশাসন।ইন্ডিকেটর পলিটিক ইন্দোনেশিয়া নামে স্থানীয় একটি সংস্থার পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, চলতি মে মাসে জোকো উইদোদোর জনসমর্থন ৫৮ দশমিক ১ শতাংশে নেমে গেছে, যা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন। সেসময় ৫৩ শতাংশে নেমেছিল তার জনসমর্থন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যেই জনপ্রিয়তায় ১২ পয়েন্ট হারিয়েছেন ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট।
শুধু ইন্দোনেশিয়ার অনুপস্থিতির সুযোগই নয়, রপ্তানি শুল্ক কমানোর মাধ্যমেও বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার পরিকল্পনা নেয় মালয়েশিয়া। গত সপ্তাহে মালয়েশীয় ভোগ্যপণ্য মন্ত্রী জুরাইদা কামরুদ্দিন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পাম অয়েলে রপ্তানি শুল্ক প্রায় অর্ধেক কমানোর জন্য দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি কমিটিও করা হয়েছে।
তাছাড়া পাম অয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ করে চাপে পড়ে ইন্দোনেশীয় সরকারও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে চলছিল ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, ২০২০ সালে দেশটি ৩ কোটি ৪০ লাখ টন পাম অয়েল রপ্তানি করে ১ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছিল। কিন্তু এ বছর সেই আয়ে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেলে দেশটির সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
