এস এম আলম, ২৮ ডিসেম্বর : ঈশ্বরদীতে স্বর্ণের দোকানে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং চোরাইকৃত স্বর্ণ, রুপা ও স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ নগদ ৭,৯০,০০০/- (সাত লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা উদ্ধার সহ আন্তঃ জেলা চোর/ডাকাত দলের ৯ (নয়) জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। ঘটনাঃ গত ২৯ নভেম্বর ২০২২ ইং তারিখ দিবাগত রাত্রে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন আওতাপাড়া বাজারে মল্লিকা জুয়েলার্স নামক স্বর্ণের দোকানে এক দুর্ধর্ষ চুরি হয়। আসামীরা উক্ত স্বর্ণের দোকানের পাশে অবস্থিত কাপড়ের দোকানের ভিতর ঢুকে পাশের ওয়াল ছিদ্র করে স্বর্ণের দোকানে প্রবেশ করে উক্ত চুরি সংঘঠন করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি চুরি মামলা রজু হয় যার মামলা নং-০৪ তারিখ ০৩/১২/২০২২ইং ধারা-৪৬১/৩৮০ পেনাল কোড। উক্ত স্বর্ণ চুরির ঘটনার পর হতে পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আকবর আলী মুনসীর নির্দেশনায় ও তত্তাবধানে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মাসুদ আলম এর নেতৃত্বে মোঃ হাদিউল, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ঈশ্বরদী থানা এবং এসআই(নিরস্ত্র) অসিত কুমার বসাক, এসআই(নিরস্ত্র) সাগর কুমার সাহা উক্ত স্বর্ণের দোকান চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মাসুদ আলম এর নেতৃত্বে পাবনা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম একটানা ৩ দিন অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানাধীন বানেশ্বর এলাকা হতে আসামী ১। মোঃ সাঈদ (নাটোর), ২। মো: বাবুল হাওলাদার ওরফে ভারানী বাবুল (বাগেরহাট) ৩। মো: বাবুল হাওলাদার ওরফে বোকদা বাবুল (শরণখোলা) দের বানেশ্বর এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকান চুরির পরিকল্পনা করারত অবস্থায় আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে উক্ত স্বর্ণের দোকান চুরির ঘটনায় অপর সহযোগীরা চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর থানা এলাকায় অপর একটি স্বর্ণের দোকান চুরির জন্য অবস্থান করছে মর্মে জানা যায়। পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর থানাধীন বড় বাজার এলাকা হইতে আসামী ১। মো: শহিদুল হাওলাদার (বাগেরহাট) ২। মো: আব্দুল মালেক (বাগেরহাট) ৩। মোঃ রুস্তম আলী শেখ (মোংলা) দের গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের আওতাপাড়ায় স্বর্ণের দোকানে চুরি যাওয়া স্বর্ণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায় উক্ত স্বর্ণ গুলো তারা নিজের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে এবং বন্টনকৃত স্বর্ণ গুলো আসামী শহিদুল হাওলাদার, আব্দুল মালেক, এবং বাবুল হাওলাদার ওরফে ভারানী বাবুল তাদের ভাগের স্বর্ণ বাগেরহাট জেলার শরনখোলা এলাকার শানÍ মিস্ত্রি এবং মোড়েলগঞ্জ থানা এলাকার বাবুল কুলু দের নিকট বিক্রয় করেছে। পরবর্তীতে বাগেরহাটের স্মরনখোলা ও মোড়েলগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে শান্ত মিস্ত্রি এর নিকট হতে ০৩(তিন) ভরি ৫(পাঁচ) আনা স্বর্ণ এবং বাবুল কুলু কর্মকারের নিকট স্বর্ণ বিক্রয়ের ৭,৯০,০০০/-(সাত লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা আসামী মোঃ শহিদুল হাওলাদার (বাগেরহাট) এর নিকট হতে উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামী মোঃ সাঈদ কে চোরাই স্বর্ণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় তার ভাগের অংশ নাটোর সদর এলাকার হৈবতপুর সাকিনের মোঃ জালাল স্বর্ণকারে নিকট বিক্রয় করে এবং সেখান হতে ৩(তিন)ভরি স্বর্ণ এবং ৫০(পঞ্চাশ)ভরি রুপা উদ্ধার করা হয়। এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি ক্ল্যুলেস চুরি/ডাকাতির ঘটনা। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, আসামীগন একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা চোর/ডাকাত চক্রেয় সক্রিয় সদস্য। তারা সাধারনত কোন এলাকায় চুরি সংঘঠনের পূর্বে সেই এলাকায় অবস্থান করে পরিকল্পনা মাফিক চুরি করে এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয় কারো সাথে যোগাযোগ ও থাকেনা। তারা মুলতঃ দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণের দোকান চুরি/ডাকাতি করে থাকে। তাদের মডাস অপারেন্ডি প্রায় এই ধরণের।

