এস এম আলম, ২১ ডিসেম্বর: পাবনা চাটমোহরের ৯ বছরের কন্যা হত্যা আসামী গ্রেফতার হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় অভিযুক্ত বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। চাটমোহর থানাধীন চর-মথুরাপুর গ্রামের তাছলিমা বেওয়ার (৩৬) মেয়ে গুনাইগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী কল্পনা খাতুন (৯) গত ১৩ ডিসেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৩ টার দিকে মথুরাপুর ব্রীজের উপর থেকে নিখোঁজ হয়। তার মা আত্মীয় স্বজনসহ প্রতিবেশী ও দহপাড়া খানকা শরিফে চলমান ইসলামী জালসায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে জালসার মাইকে মাইকিং করেও খুঁজে পাননা। পরের দিন ১৪ ডিসেম্বর সকাল অনুমান সাড়ে ১০ টার দিকে গুনাইগাছা ইউপির পৈলানপুর গ্রামের মৃত দেরাজ ফকির এর ছেলে মোহাম্মাদ আলী’র (৬৫) লিচু বাগানের মধ্যে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর ভুক্তোভোগীর মা বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় ১৪ ডিসেম্বর ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন যার নম্বর- ০৫। মামলার পর পাবনা পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খাঁন এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) কাজী শাহনেওয়াজ, পিপিএম- সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) রেজিনূর রহমান এবং সহকারী পুলিশ সুপার, চাটমোহর সার্কেল আরজুমা আকতার এর সার্বিক তত্ত¡াবধানে, অফিসার ইনচার্জ চাটমোহর থানা, এবং ওসি ডিবি পাবনা এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) বেনু রায়, মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) সামসুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স এর মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত চাটমোহর থানাধীন চর- মথুরাপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে নুরুজ্জামান মল্লিক ওরফে নূর জামাল (১৭) কে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া ১টি পুরাতন পায়জামা, ১টি প্রিন্টের জামা, ১টি সোয়েটার ও ১ জোড়া বার্মিজ স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। যার সবই ভুক্তভোগী কল্পনার। গতকাল ২১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২ টায় পাবনা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) রেজিনূর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন গ্রেফতার নুরজামালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপরাধ স্বীকার করে সে জানায় ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার দহপাড়া খানকা শরিফে ইসলামী জালসা ছিল। ঐদিন রাত সাড়ে ৭টায় জালসার পার্শ্ববর্তী স্কুল মাঠে গিয়ে ৫০ টাকার গাঁজা কিনে খেলে শরীরে খারাপ অনুভ‚তি হওয়ায় সে বাড়ীর দিকে রওয়ানা দেয়। পথে ভিকটিম কল্পনা খাতুনকে বসে থাকতে দেখে তাকে বাড়ী পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সেখান থেকে পায়ে হেটে রওয়ানা করে। তার বাড়ীর পার্শ্বেই ভুক্তভোগী কল্পনার বাড়ী হওয়ায় আবার স¤পর্কে সে প্রতিবেশি চাচা হওয়ায় ভুক্তভোগী তার সাথে রওয়ানা দেয়। কিন্তু অভিযুক্ত নুরজামাল বাড়ীর রাস্তায় না গিয়ে তার বিকৃত যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে মোহাম্মাদ আলী’র লিচু বাগানে নিয়ে গেলে কল্পনা চিল্লাচিল্লি ও কান্নাকাটি শুরু করলে লোকজন জেনে যাবে এমন ভয়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনাকে অন্য পথে পরিচালনার জন্য তার পড়নের পায়জামা খুলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

