Homeখেলাধুলাঅবশেষে জয়ে ফিরলো লিভারপুল

অবশেষে জয়ে ফিরলো লিভারপুল

১৯৫৩ সালের পর কী তাহলে লজ্জার রেকর্ডটা গড়েই ফেলবে লিভারপুল! টানা পঞ্চম ম্যাচ হেরে যাবে তারা? আগের চারটি ম্যাচ টানা হারের কারণে সে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুটের মাঠে গিয়ে টানা পরাজয়ের অবসান ঘটলো লিভারপুলের। ফ্রাঙ্কফুর্টকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এসেছে আরনে স্লটের শিষ্যরা।ফ্রান্সের তরুণ স্ট্রাইকার হুগো একিতিকের জন্য ছিল অম্ল-মধুর এক সমস্যা। তার সাবেক ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের মাঠে প্রতিপক্ষ হয়ে খেলতে গেলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গোল করে লিভারপুলকে ফিরিয়ে এনেছেন জয়ের ধারায়ও। টানা চার পরাজয়ের পর আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেলো ইংলিশ জায়ান্টরা।২৬ বছর বয়সী একিতিকে, যিনি ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ২৬ গোল করেছিলেন, সর্বশেষ দলবদলে বড় অঙ্কে লিভারপুলে যোগ দেন। পুরনো ক্লাবের বিপক্ষেই তার গোল এনে দেয় ম্যাচের মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত, যখন লিভারপুল টানা অষ্টম ম্যাচে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল।লিভারপুল কোচ আরনে স্লট নতুন পরিকল্পনায় দুই স্ট্রাইকার নিয়ে মাঠে নামেন— একিতিকে ও ব্রিটিশ রেকর্ড সাইনিং আলেকজান্ডার ইসাক। যদিও ইসাক এখনও ফর্মে ফিরতে পারেননি, তবে একিতিকে ঝলসে উঠলেন। পাশাপাশি নতুন তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজকেও সুযোগ দেন স্লট, যার ফলে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ সালাহ ছিলেন বেঞ্চে।প্রথমার্ধে গোলের দেখা মেলে ডিফেন্ডারদের হাত ধরে। দুটি কর্নার থেকে ভিরগিল ফন ডাইক (৩৯ মিনিট) ও ইব্রাহিম কোনাতে (৪৪ মিনিট) হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এই দুই গোলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে লিভারপুলের হাতে। তার আগে প্রথম গোল করেন হুগো একিতিকে। ৩৫তম মিনিটে তার গোলেই সমতায় ফিরেছিল অল রেডরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ভির্ৎজ নিজের সেরাটা দেখান। তার নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন কোডি গাকপো (৬৬ মিনিট) ও ডমিনিক সোবোসলাই (৭০ মিনিট), যা লিভারপুলের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যাচে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।ফ্রাঙ্কফুর্টের রক্ষণভাগ ছিল আগের মতোই দুর্বল। শেষ নয় ম্যাচে তারা কোনো ক্লিনশিট রাখতে পারেনি এবং আগের পাচ ম্যাচেই ১৮ গোল হজম করেছে। আশ্চর্যের বিষয়, নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে ৫-১ জয়ের পর পরের দুই ম্যাচ একই ব্যবধানে হেরেছে জার্মান ক্লাবটি।প্রথমে ফ্রাঙ্কফুর্ট গোল করে এগিয়ে যায় মারিও গোৎস ও রাসমুস ক্রিস্টেনসেন–এর সমন্বয়ে, কিন্তু মাত্র নয় মিনিট পরেই পাল্টা আঘাত হানেন একিতিকে। অ্যান্ডি রবার্টসনের লম্বা পাস ধরে অর্ধেক মাঠ পাড়ি দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এটি ছিল লিভারপুলের ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ৩০০তম অ্যাওয়ে গোল এবং এরপর কোনাতে করেন চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০০তম অ্যাওয়ে গোল। শেষ দিকে সোবোস্লাইয়ের দূরপাল্লার শট ও ভির্ৎজের চমৎকার প্লে-মেকিংয়ে ব্যবধান বাড়িয়েই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে লিভারপুল থামায় টানা চার ম্যাচের হারের ধারা এবং আর্নে স্লটের দলের সামনে আবারও জেগে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments