যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে এবার অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন হামলা যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে থমকে যাবে চলমান সব আলোচনা প্রক্রিয়া।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দিয়েছে। বিবৃতিতে ইসলামাদ সমঝোতার পঞ্চম দফার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। ইরানের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ নিয়ন্ত্রণের আইনি ও সার্বভৌম অধিকার একমাত্র ইরানের।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে যে সম্মতি হয়েছিল, তার মূল ভিত্তিই হলো এই অঞ্চলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা। এখন থেকে এই জলসীমায় নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করে, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তেহরান আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে এর জবাব দেবে।আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, শত্রুপক্ষ তথা যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত যে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে এবার ওয়াশিংটনকে একটি ‘চূর্ণকারী জবাব’ দেওয়া হবে।ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন গভীর সংকটে পড়েছে। গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও এই সংঘাতের ফলে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে।
শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। সেন্টকমের দাবি, ইরান এই হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও আরেকটি সিঙ্গাপুরের কনটেইনার জাহাজে একই ধরনের ড্রোন হামলা হয়েছিল। এই দুটি ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে এই নতুন বিমান হামলা শুরু করে।
সুত্র: আল জাজিরা
