অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর মাত্র পাঁচদিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউটের লজ্জায় পড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে ইনিংস ও ৩৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে হতাশ প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও।২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডারউইনের মারারা ওভালেই অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতি ম্যাচটি। ফলে মূল লড়াইয়ের আগে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা যাচাইয়ের জন্য ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্যাটিংয়ের এমন বিপর্যয় প্রথম টেস্টের আগে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল পুরোপুরি দিশেহারা। তৃতীয় দিনের শুরুতে ২ উইকেটে ১৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করা বাংলাদেশ মাত্র ১৭ ওভার টিকতে পেরেছে। একের পর এক ব্যাটার ফিরেছেন অল্প রানে। দলের হয়ে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন কেবল ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি করেন ২২ রান। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
এই ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ বাঁ-হাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। একাই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে তুলে নেন ৮ উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কোনো ধরনের প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি।যদিও দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয় পুরো দলের প্রস্তুতিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিং ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির জায়গা।
শুরুতেই বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ১১০ রান হয়ে যায়। সেখান থেকে মিরাজ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে টেনে তোলেন। ১৪১ বলে ১০৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার।মিরাজের শতকে ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায়। এরপর বল হাতে সুযোগটি কাজে লাগান হাসান মাহমুদ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৪২ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা ৩৫৫ রানে অলআউট হয়।কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। ফলে প্রথম ইনিংসে মিরাজের লড়াইয়ের পরও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টেস্টে নতুন বলে প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণ সামলানোই হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এর মধ্যেই প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়া সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। মিরাজের শতকে শেষ পর্যন্ত দল ঘুরে দাঁড়ালেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই প্রতিরোধের সামান্যতম ছাপও দেখা যায়নি।মূল টেস্টের আগে বাংলাদেশের হাতে এখন আর খুব বেশি সময় নেই। সর্বোচ্চ তিন-চারটি অনুশীলন সেশন পাওয়া যাবে। এই অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে শান্তদের। আর সেটিই এখন সিমন্সের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির টেস্ট দলের বিপক্ষে এমন ব্যাটিং করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিবিরে আরেকটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাইজুল ইসলামের চোট। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন ব্যাটিং করার সময় বাঁহাতের তর্জনীতে আঘাত পান বাংলাদেশের প্রধান স্পিনার।চোটের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের প্রথম ইনিংসে বলই করতে পারেননি তাইজুল। ফলে প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ দলের ফিজিওথেরাপি বিভাগ। তার চোটের জায়গায় হাড়ে আঘাতজনিত সমস্যা হলেও ব্যথা ও ফোলা কমে এসেছে।দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ‘চোটের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। ব্যথা ও ফোলা দুটিই কমেছে। প্রথম টেস্টের আগে আমাদের হাতে আরও চার দিন আছে। তাই আমি আশাবাদী, তাইজুল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ম্যাচের জন্য তৈরি থাকবে।’
