১৩ বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরলেন হোসে মরিনহো। তার প্রত্যাবর্তনের রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি তারকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদকে। এর ফলে মরিনহোর অধীনে লা লিগায় টানা দ্বিতীয় জয় পেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সে সঙ্গে হ্যাটট্রিক দিয়েই নতুন মৌসুমে গোলের খাতা খুললেন এমবাপে।ফরাসী এই তারকার তিন গোলের সঙ্গে রিয়ালের হয়ে আরও একটি গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সোসিয়েদাদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন লুকা সুচিক।নতুন মৌসুমের প্রথম হ্যাটট্রিকের ফলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫ ম্যাচে ৮৯টি। নতুন মৌসুমের শুরুতেই নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিলেন ফরাসি অধিনায়ক।শনিবার এস্পানিওলের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম জয়টি ছিল অ্যাওয়ে ম্যাচে। এবার রিয়ালের হোম ভেন্যু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরলেন মরিনহো। রিয়াল মাদ্রিদে প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৩ বছর পর ঘরের মাঠে হিসেবে ফিরলেন পর্তুগিজ এই কোচ।ম্যাচ শুরুর আগেই তাকে স্বাগত জানায় বার্নাব্যু। স্টেডিয়ামে মরিনহোর নাম ঘোষণা হতেই গর্জে ওঠে দর্শকরা। ছিল উৎসবের আবহ।বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের হয়ে মাঠে নামা রিয়ালের ফুল-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়াকে ম্যাচের আগে গার্ড অব অনারও দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন সোসিয়েদাদের মিকেল ওইয়ারজাবাল, যিনি স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন এবং বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করেন।তবে ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল সোসিয়েদাদ। ওইয়ারজাবালের কাছ থেকে পাওয়া শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।
রিয়ালও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। মাঝমাঠে আক্রমণের কলকাঠি নাড়ছিলেন আরদা গুলের ও জুদ বেলিংহ্যাম। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসের শট দারুণভাবে ঠেকান সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো। এমবাপের শটও সামলে নেন তিনি।এরপর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে আবারও গোলের চেষ্টা করেন এমবাপে। কিন্তু রেমিরো এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান। তবে বিরতির আগেই ম্যাচে সমতা ফেরায় সোসিয়েদাদ। পেছন থেকে সার্জিও গোমেজের বাড়ানো বল থেকে তৈরি হয় আক্রমণ। জব ওচিয়েংয়ের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে চলে যায় সুচিকের সামনে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ১-১ সমতায় দুই দল।চাপ বাড়াতে বাড়াতে অবশেষে ৪০তম মিনিটে গোল পেয়ে যায় রিয়াল। ফেদেরিকো ভালভার্দে দারুণ এক পাসে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের দিকে। প্রথম স্পর্শেই নিজেকে শট নেওয়ার জায়গায় নিয়ে যান ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে ১-০ এগিয়ে দেন।বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে রিয়াল। এমবাপেও গুলেরের শট ঠেকিয়ে সোসিয়েদাদকে কিছুক্ষণ ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন রেমিরো। এ সময় সাইডলাইনে বেশ উত্তেজিত দেখা যায় মরিনহোকে। সোসিয়েদাদের ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড না দেখানোয় রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন তিনি।তবে তার সেই বিরক্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আবারও রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপে। বাম দিক দিয়ে কুকুরেয়া ও ভালভার্দের সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি হয়। এরপর বেলিংহামের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে সোসিয়েদাদের রক্ষণ ভেঙে দেন এমবাপে। বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বল রেমিরোর পাশ দিয়ে জালে পাঠিয়ে ২-১ করেন তিনি।
এরপর মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। এবার গোলের পেছনে বড় ভূমিকা বেলিংহামের। ইংলিশ মিডফিল্ডার বক্সে ঢুকে শট নেন। সেটি ব্লক হয়ে গেলেও হাল ছাড়েননি। প্রতিপক্ষের লুকেন বেইতিয়ার কাছ থেকে বল পুনরুদ্ধার করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে তুলে দেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান তারকার সামনে তখন শুধু বল জালে পাঠানোর কাজটিই বাকি ছিল। সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করে রিয়ালের লিড ৩-১ করেন ভিনিসিয়ুস।১০ মিনিট বাকি থাকতে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপে। ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ থ্রু বল পেয়ে গোলরক্ষকের সামনে এগিয়ে যান তিনি। এরপর নিখুঁত চিপে বল পাঠিয়ে দেন রেমিরোর মাথার ওপর দিয়ে। বল জালে জড়াতেই পূর্ণ হয় এমবাপের হ্যাটট্রিক।রিয়ালের হয়ে এটি তার ৮৯তম গোল। মাত্র ১০৫ ম্যাচেই এই সংখ্যায় পৌঁছে গেছেন ফরাসি তারকা। শেষ মুহূর্তে রিয়ালের হয়ে পঞ্চম গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ব্রাহিম দিয়াজ বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।রিয়ালের দায়িত্বে ফিরেই মরিনহো পেয়েছেন টানা দুই লিগ জয়। প্রথমে এস্পানিওল, এবার সোসিয়েদাদ- দুই ম্যাচেই জয়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়টা এসেছে আরও দাপুটে ভঙ্গিতে।
