Homeখেলাধুলা২ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রানের লিড ওয়েস্ট ইন্ডিজের

২ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রানের লিড ওয়েস্ট ইন্ডিজের

দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত ৯৮ রানের লিড তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর বাংলাদেশের প্রাপ্তি দুই উইকেট। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে দুই দলের খেলোয়াড়রা। সফরকারীদের বোর্ডে রান এখন ২ উইকেটে ১২৮।তৃতীয় দিন তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরির পরও চতুর্থ দিন কাঙ্ক্ষিত শুরু পায়নি বাংলাদেশ। বোলাররা পারছিলেন না উইকেট তুলে নিতে। চতুর্থ দিন কাঙ্ক্ষিত শুরু না পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি উইকেট তুলে নিয়ে লাঞ্চে গেছে বাংলাদেশ।প্রথমে তাইজুলের স্পিনে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না পাওয়া তাইজুল ইন্ডিজের উদ্বোধনী থামান জশুয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে।৮৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম উইকেট হারায় উইন্ডিজ ৩৫ রান করা সিলভার আউটে। এরপর আঘাত হানেনে মেহেদী হাসান মিরাজ। আর বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬১ রান করা আরেক ওপেনার কাভেম হজকে। ১১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়েছে।৩০ রানে অপরাজিত কাভেম হজ। এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি নতুন ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম।

এর আগে, সিলেট টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখনো তারা পিছিয়ে ২৩ রানে। অর্থাৎ এগিয়ে বাংলাদেশই।তাওহীদ হৃদয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটা খেললেন। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে হলো তাকে। হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে হার না মানা ২৪২ রানের ইনিংস। সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ৩৮৬ রানে থেমেছে। সাদমান ইসলাম ইনজুরিতে থাকায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করে। হৃদয়ের অসাধ্য সাধনে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।৩৫৯ বলে ২২ চার আর ১১ ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে তাসকিন আহমেদ করেন ১২ রান।বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এতদিন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের, অপরাজিত ২১৯ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হৃদয় আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে মুশফিককে ছাড়িয়ে গেছেন।

‌‘ওয়ান ম্যান শো’ যাকে বলে! সতীর্থ ব্যাটাররা কেউ ফিফটিও করতে পারেননি। তাওহীদ হৃদয় বলতে গেলে একা হাতে বাংলাদেশকে টানলেন। কে বলবে, ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছেন!সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় হৃদয়ের নামের পাশে ১৯০ রান। সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাসকিন আহমেদ। সাদমান ইসলাম ইনজুরিতে পড়ায় তাসকিনই কার্যত বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ব্যাটার। আউট হলেই শেষ।সেই তাসকিনকে নিয়েই মহাকাব্যিক এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হৃদয়। এক প্রান্ত ধরে ধরে ৩০৪ বলে এই ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটার। ২০০ রান ছোঁয়ার পথে খেলার পথে ১৯টি চার আর ৭টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়।

হৃদয়ের ইনিংসে বিরাট অবদান রেখেছেন লোয়ার অর্ডারের তাইজুল ইসলাম আর তাসকিন। তাইজুলের সঙ্গে তার ১১৭ রানের জুটিতেই ৩০০ পার করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জুটির ইতি টানেন জোমেল ওয়ারিকেন।দিনের চতুর্থ শিকারে তাইজুলকে ব্যক্তিগত ২২ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন ওয়ারিকেন। ৩০১ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে মুশফিক জোমেল ওয়ারিকেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন।এরপর লিটনও ফিরেছেন মাত্র ৮ রান করে। মুশফিকের মতো ওয়ারিকেনের বলে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত ১৬ রানে। তাতে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। তার বিদায়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। ১ রানের বেশি করতে পারেননি হাসান মাহমুদ। ওয়ারিকেনের তৃতীয় শিকার হন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।

এর আগে, ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। সেদিন ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। নতুন বলে শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিং নামা নাঈম হাসান ৫ রানে ফেরার পর বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিমও। কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে থামার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান।আশা করা হচ্ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত হাল ধরবেন। কিন্তু সেটি হয়নি। ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments