বাংলাদেশে আসার পর থেকেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের দীর্ঘদেহী অফস্পিনার রাহকিম কর্নওয়াল। তার বোলিংয়ের চেয়ে যেন শরীরের ওজনটাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছিল সবার আলোচনায়।লাল বলের ক্রিকেটে যে কার্যকরী অফস্পিন করে থাকেন কর্নওয়াল- তার প্রমাণ তিনি দিলেন আরও একবার। প্রস্তুতি ম্যাচে তার স্পিনেই কুপোকাত নাইম শেখ, ইয়াসির রাব্বিরা।আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে এখন চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে ক্যারিবীয়রা, প্রতিপক্ষ বিসিবি একাদশ। এই ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১৪২ রানে পিছিয়ে বিসিবি একাদশ, হাতে আছে ৬টি উইকেট।
ম্যাচের প্রথম দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২৫৭ রানের জবাবে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান করে বিসিবি একাদশ। সেই ৮ ওভারে দারুণ ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও সাইফ হাসান। তবে আজ কেমার রোচের করা দিনের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরে যান ৩৩ বলে ১৫ রান করা সাইফ হাসান।
দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলামকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়েন নাইম শেখ। যেখানে অনেকটা ওয়ানডে মেজাজেই ব্যাট করেন নাইম। তবে দলীয় ১০০ পার হওয়ার আগেই এ জুটি ভাঙেন কর্নওয়াল। হাফসেঞ্চুরির কাছে পৌঁছে যাওয়া নাইমকে বোল্ড করেন অফস্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৯ চারের মারে ৪৮ বলে ৪৫ রান করেন নাইম।সাদমান-নাইমের ৭৪ রানের জুটি ভাঙার পর ছোট্ট ধ্বস নামে বিসিবি একাদশের ব্যাটিংয়ে। ইনিংসের ২৬তম ওভারের শেষ বল থেকে ২৮তম ওভারের দ্বিতীয় বল পর্যন্ত ৯ বলের মধ্যে মাত্র ২ রানের ব্যবধানেই ৩ উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। যেখানে কর্নওয়ালের শিকার দুইটি, আলঝারি জোসেফ নেন একটি।
২৬তম ওভারের শেষ বলে নাইম ফেরার পর ২৭তম ওভারের শেষ বলে আলঝারির জোসেফের শিকারে পরিণত হন টেস্ট মেজাজে ৮২ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলা সাদমান। ঠিক পরের ওভারে কর্নওয়ালের বলে কাভেম হজের হাতে ধরা পড়েন ইয়াসির আলি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ১ উইকেটে ৯৮ থেকে ৪ উইকেটে ১০০ রানের দলে পরিণত হয় বিসিবি একাদশ।
সেখান থেকে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে আর বিপদ ঘটতে দেননি শাহাদাত হোসেন দীপু এবং অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ইনিংসের ৩৪ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে বিরতিতে যায় বিসিবি একাদশ। সোহান ৭ ও দীপু ৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
