ভয়-শঙ্কা কাটিয়ে চট্টগ্রামে বাড়ছে করোনা টিকাগ্রহীতার সংখ্যা। নির্ধারিত কেন্দ্রে এসে লাইন ধরে স্বাচ্ছন্দ্যেই নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ টিকা নিচ্ছেন। এমনকি টিকা নিতে আসা মানুষকে সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে খোদ পুলিশ সদস্যদেরও। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।চট্টগ্রামে পঞ্চম দিনে টিকা নেন ১৬ হাজার ৮০৫ জন। এর আগের দিন বুধবার টিকা নিয়েছিলেনে ১০ হাজার ৩৬২ জন।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান।
টিকা দেয়ার কার্যক্রমের শুরুতে প্রথম দিন টিকা নিয়েছিলেন এক হাজার ৯০ জন। দ্বিতীয় দিনে দুই হাজার ৬৭৮ জন। তৃতীয় দিনে ছয় হাজার ৫৯ জন ও চতুর্থ দিনে ১০ হাজার ৩৬২ জন টিকা নেন। তবে বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তা কমে হয় আট হাজার ৯৫২ জন। এছাড়া নগরে টিকা নিতে আবেদন করেন ৪৮ হাজার ৫৩০ জন।
সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি জানান, বৃহস্পতিবার টিকা নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় আবেদন করেছেন ৭৬ হাজার ৬৮ জন। যার মধ্যে নগরের ৪৮ হাজার ৫৩০ জন ও বিভিন্ন উপজেলার ২৭ হাজার ৫৩৮ জন। নগরে ও ১৪টি উপজেলায় করোনা টিকা নিয়েছেন ১৬ হাজার ৮০৫ জন। এরমধ্যে নগরে ১০ হাজার ৩৬২ জন ও চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলায় সাত হাজার ৮৫৩ জন।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নগরের ছয় হাজার ৬২ জন পুরুষ ও দুই হাজার ৮৯০ জন নারী রয়েছেন টিকা নেয়ার তালিকায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই হাজার ৭২ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে এক হাজার ১৮৭ জন পুরুষ ও ৮৮৫ জন নারী।এছাড়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এক হাজার ১৭০ জন পুরুষ ও ৮০২ জন নারী টিকা নেন। বিমান বাহিনী হাসপাতালে ২০০ জনের মধ্যে ১৯৮ জন পুরুষ ও দুইজন নারী, নৌবাহিনী হাসপাতালে ৫৫০ জনের মধ্যে ৫৩৩ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী, সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৪৬ জনের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী টিকা নেন।
বাংলাদেশ মিলিটারি (বিএম) হাসপাতালে ৯৯ জনের মধ্যে ৯৬ জন পুরুষ ও তিনজন নারী, চট্টগ্রাম পুলিশ হাসপাতালে ৩৪০ জনের মধ্যে ২৪২ জন পুরুষ ও ৯৮ জন নারী, চসিক জেনারেল হাসপাতালে দুই হাজার ২৮০ জনের মধ্যে এক হাজার ৬১৯ জন পুরুষ ও ৬৬১ জন নারী, চসিক মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালে ৬১০ জনের মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ ও ২১৭ জন নারী, চসিক বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতালে ৪৮০ জনের মধ্যে ৩৬০ জন পুরুষ ও ১২০ জন নারী, চসিক ছাফা মোতালেব হাসপাতালে ২০৩ জনের মধ্যে ১২৩ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীকে টিকা দেয়া হয়।
অপরদিকে ১৪টি উপজেলায় টিকা নেয়া সাত হাজার ৮৫৩ জনের মধ্যে পাঁচ হাজার ২৫৫ জন পুরুষ ও দুই হাজার ৫৯৮ জন নারী। উপজেলার লোহাগাড়ায় ৪৪০ জনের মধ্যে ২৫৩ জন পুরুষ ও ১৮৭ জন নারী, রাঙ্গুনিয়ায় ৫৩৩ জনের মধ্যে ৩৮২ জন পুরুষ ও ১৫১ জন নারী, ফটিকছড়িতে ২৭০ জনের মধ্যে ২০৭ জন পুরুষ ও ৬৩ জন নারী, বাঁশখালীতে ২৫১ জনের মধ্যে ১৫১ জন পুরুষ ও ১০০ জন নারী, আনোয়ারায় ৫৩৫ জনের মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ ও ১৬৬ জন নারী, সীতাকুণ্ডে ৭৫৪ জনের মধ্যে ৫১৬ জন পুরুষ ও ২৩৮ জন নারী, সাতকানিয়ায় ৪৮০ জনের মধ্যে ৩৮৮ জন পুরুষ ও ২০৪ জন নারী টিকা নেন।
এছাড়া রাউজানে এক হাজার ৩৮৮ জনের মধ্যে ৯২৫ জন পুরুষ ও ৪৬৩ জন নারী, মিরসরাইয়ে ৫৯২ জনের মধ্যে ৩৮৮ জন পুরুষ ও ২০৭ জন নারী, চন্দনাইশে ২৭১ জনের মধ্যে ২১৫ জন পুরুষ ও ৫৬ জন নারী, বোয়ালখালীতে ৩৮১ জনের মধ্যে ২২৩ জন পুরুষ ও ২৫৮ জন নারী, হাটহাজারীতে এক হাজার ৪০ জনের মধ্যে ৬১০ জন পুরুষ ও ৪৩০ জন নারী, সন্দ্বীপে ১৯০ জনের মধ্যে ১৩১ জন পুরুষ ও ৫৯ জন নারী, পটিয়াতে ৭২৮ জনের মধ্যে ৪৯৭ জন পুরুষ ও ২৩১ জন নারী টিকা গ্রহণ করেন।
