১২টি সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন বিশ্ব’ শ্লোগানে একটি শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ কিষাণী সভা, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভাসমান নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বিল্ডিং অ্যান্ড উড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, অভিবাসী নারী শ্রমিক ফোরাম, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন- বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতি।
গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী লাভলী ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য করেন- কৃষক নেতা কমরেড এএসএম বদরুল আলম, জায়েদ ইকবাল খান, ভূমিহীন নেতা সুবল সরকার, শ্রমিক নেতা ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনি, এ এ এম ফয়েজ হোসেন, এ কে এম শহিদুল আলম ফারুক, শ্রমিক নেত্রী শামিম আরা, বাচ্চু মিয়া, আদিবাসী নেত্রী অমলী কিসকু, নারী নেত্রী রেহেনা বেগম, মাহেনুর আক্তার বৃষ্টি প্রমুখ।
বক্তারা নারী দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমাজে নারীদের বিশেষ করে শ্রমজীবী নারীদের আত্মমর্যাদা ও সমঅধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আজও তারা সমাজে চরম বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার।
তারা আরও বলেন, পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদানকে স্বীকার করে না। অধিকন্তু সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার নারীর অগ্রগতির পথে চির বাঁধা হয়ে আছে। তারা এ বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে নারীদের শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতি জোর দেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, এত বাঁধা বিপত্তির পরও স্বাধীনতার পর হতে বাংলাদেশের নারীদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে প্রভূত সাফল্য রয়েছে। কিন্তু অন্ধকারের এক শক্তি এ অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য আধা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। নারীদের তারা মানুষ হিসেবেই গণ্য করে না। নারী প্রতি তারা কুরুচিপূর্ণ কথা ছুড়ে দেয়। ‘ঘরের বাহিরে এসে নারীদের উপার্জন করা দরকার নেই’, ‘নারীর উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন নেই’, ‘নারী জেনা করে উপার্জন কর’ ইত্যাদি নোংরা উক্তি করে নারীদেরকে খাটো করতে একটি মহল পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।বক্তারা নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা বিরোধী সকল অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান। এছাড়া কোভিড ১৯-এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানার শ্রমজীবী নারীদের প্রতি মালিক পক্ষ যে অন্যায় আচরণ করছে তার তীব্র সমালোচনা করে কর্মচ্যুত নারীদের কাজে পুনর্বহাল, তাদের বেতন, পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
