Homeআন্তর্জাতিকভারত-পাকিস্তান বৈঠক আজ

ভারত-পাকিস্তান বৈঠক আজ

গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দুই বৈরী দেশ ভারত এবং পাকিস্তান। দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে এই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিন্তু সব বিতর্ক সরিয়ে দু’দেশই হয়তো নিজেদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। আর সে কারণেই মঙ্গলবার দু’দেশের মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে নয়াদিল্লিতে ওই বৈঠক হবে। ভারতের দুই কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘স্থায়ী সিন্ধু কমিশন’ এর দু’দিনের বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে।

দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানিবন্টন নিয়ে দ্বন্দের অবসানে ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ হয়। এর অংশ হিসেবে ওই বছর গঠন করা হয় ‘স্থায়ী সিন্ধু কমিশন’। চুক্তি অনুযায়ী, দু’দেশের প্রতিনিধিদের পানিবন্টন নিয়ে আলোচনার জন্য বছরে অন্তত একবার বৈঠক করার কথা থাকলেও গত কয়েক বছরে তা হয়নি।

২০১৯ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪০ ভারতীয় জওয়ান নিহতের ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। তারপর থেকে ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা বন্ধ ছিল। এছাড়া কাশ্মীর থেকে ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের কারণেও দু’দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে।ওই বৈঠকে অংশ নিতে সোমবারই নয়াদিল্লি পৌঁছেছে পাকিস্তানের সাত সদস্যের একটি টিম। পাক সিন্ধু কমিশনার সৈয়দ মুহাম্মদ মেহের আলির নেতৃত্বে ওই টিম ভারতে পৌঁছেছে। ভারতীয় প্রতিনিধি ও পাকিস্তানের সিন্ধু কমিশনের বিশেষ টিম আজ মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন বলে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সিন্ধু কমিশনের টিমকে নেতৃত্ব দেবেন পি কে সাক্সেনা। তার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের উপদেষ্টা, সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ও ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।ভারতের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে সাক্সেনা বলেন, আলোচনায় মতবিরোধ কাটানো সম্ভব। সেই চেষ্টাই করা হবে। উল্লেখ্য সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে শেষবার দুই দেশ বৈঠকে বসেছিল ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে।

এর আগে গত মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কাশ্মীর সীমান্তে একে অন্যের বিরুদ্ধে গোলাগুলি ও হামলার বন্ধের বিষয়ে একমত প্রকাশ করে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে ওই ঘটনার কথা উল্লেখ করা বলা হয়েছে যে, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে ভারত, পাকিস্তান বা আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।২০০৩ সালে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু ওই চুক্তি লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ই সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু গত মাসে দু’দেশই যখন ওই চুক্তি মেনে চলার বিরল প্রতিশ্রুতি দিল তখন পুরো বিশ্বই অনেকটা অবাক হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments