করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সংগঠন পর্যায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ ও ব্যক্তি পর্যায়ে দুজনকে একসঙ্গে শহীদ মিনারে যেতে বলা হলেও মানা হচ্ছে না কোনো নির্দেশনা। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে বলা হলেও কিছুই মানছে না ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষেরা।সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমন চিত্রই দেখা যায়।
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা শুভ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, কিছু করার নেই। এই দিনে সবার সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। মাস্ক পরার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সবসময় মেনে চলাও কঠিন।সাবরিনা মিমি নামে এক নারী উদ্যোক্তা এসেছেন সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সংগঠন পর্যায়ে সর্বোচ্চ পাঁচজন শহীদ মিনারে আসতে পারবে বলা হলেও তার চেয়ে অনেক বেশি সদস্য এসেছেন ফুল নিয়ে। নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, অন্যদের তুলনায় আমরা কম লোকজন নিয়েই এসেছি। ফুলের তোড়া, ব্যানার ধরতেই কয়েকজন লাগে। তবে এখানকার লোকজন যদি বলেন পাঁচজনের বেশি শহীদ মিনারের ওপরে ওঠতে পারবে না তাহলে উঠবো না। পাঁচজন যাবো ওপরে।
স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম শিবলুর রহমান বলেন, বেদিতে পাঁচজনই যাবো। আমরা বেশ কয়েকজন আসছি। যতজন যেতে দেয় ততজনই যাবো।নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোস্তফা কামাল বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আবেগের দিন। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জায়গাটিতে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সবার আবেগের বহিঃপ্রকাশ। যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মানছে না। আবার মানার কথা বললেই আগত মানুষজন বলছে শ্রদ্ধা জানাতে দিন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি অন্তত মাস্কটা যেন মুখে রাখে। সেটাও অনেকে মানতে চাই না।করোনা প্রতিরোধে গত বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও স্বাস্থবিধি মানা ও মাস্ক পড়ার বিষয়ে অনীহা দেখা গেছে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকের মুখেই মাস্ক নেই।
