Homeআন্তর্জাতিকইরানে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প

ইরানে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের জেরে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিষয়ে সিরিয়াসলি ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরানে কীভাবে হামলা চালানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প তার সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠী অর্থনৈতিক দুরাবস্থাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমন করতে যে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার জবাবে হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের সামনে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানে সামরিক স্থাপনা নয়- এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করেছে।শনিবার (১০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ইরান এমন এক স্বাধীনতার মুখোমুখি হচ্ছে, যা হয়তো তারা আগে কখনো দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত!!!

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে, অর্থনৈতিক মন্দা কেন্দ্র করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে ও আকারে বড় হয়। অনেক ইরানি দেশটির কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।ইরানি কর্মকর্তারা এসব বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার হুমকি দিয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ৬২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বলেছেন, বড় পরিসরের এই বিক্ষোভের মুখেও সরকার ‘পিছু হটবে না’।ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়েছেন যে, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার যদি প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিনি বলেন, ইরান ‘বড় ধরনের সমস্যায়’ রয়েছে।

তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি খুব শক্ত ভাষায় বলেছি যে, যদি তারা আগের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, আমরা এতে জড়াবো। আমরা তাদের খুব শক্তভাবে আঘাত করবো, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগে। এর মানে মাটিতে সেনা নামানো নয়, বরং খুব, খুব শক্তভাবে আঘাত করা। আমরা সেটা চাই না, কিন্তু প্রয়োজন হলে করবো।শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফোনালাপ সম্পর্কে জানেন তিন ব্যক্তি জানান, আলোচনায় ইরানে বিক্ষোভের পাশাপাশি সিরিয়ার পরিস্থিতি ও গাজায় শান্তি চুক্তির বিষয়ও উঠে আসে।শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভোরে নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে রুবিও লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন সেনাবাহিনী। এর পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বলছে, ট্রাম্প অন্য ক্ষেত্রেও সাহসী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ও দেওয়া হুমকি বাস্তবায়নে তিনি পিছপা হন না।শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ভেনেজুয়েলায় রাতের হামলার ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটির সঙ্গে লেখা ছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা করবেন না। তিনি যখন কিছু বলেন, তখন তা বাস্তবায়ন করেন।শনিবার (১০ জানুয়ারি) জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পকে যে বিকল্পগুলো দেখানো হয়েছে, তার অন্তত কিছু সরাসরি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সেই অংশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যারা ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ব্যবহার করছে।

তবে একই সঙ্গে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, যে কোনো সামরিক হামলার ক্ষেত্রে এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে ইরানের জনগণ উল্টো সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে না পড়ে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মীদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে প্রায় এক বছরে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে একের পর এক বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। গত জুনে ইরানে হামলা ও ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়াতেও বোমা ফেলেছে বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।এর আগে, ২০২০ সালে তার প্রথম মেয়াদে, ট্রাম্প ইরাকের বাগদাদে একটি ড্রোন হামলার নির্দেশ দেন। ওই হামলায় নিহত হন ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, যিনি শক্তিশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি অভিজাত ইউনিটের প্রধান ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments