এস এম আলম, ২২ এপ্রিল: সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রত্যয়ে পাবনায় বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং বিচার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুত ও কার্যকর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর সভাপতিত্বে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে বিকেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আখতারুজ্জামান। এছাড়া সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাবাসসুম। আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাবের কো¤পানি কমান্ডার লে. ওয়াহিদুজ্জামান, পিবিআই (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীর, পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সারোওয়ার খান জুয়েল, পাবনা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ, সেক্রেটারি মলয় কুমার দাস রায় সহ বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, পারিবারিক আদালতের বিচারক, পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, সিআইডির প্রতিনিধি, জেল সুপারের প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, নিরাপদ খাদ্য অফিসার, সমাজসেবা অফিসার, প্রবেশন অফিসার এবং জেলার বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা তাবাসসুম ই জান্নাত। সম্মেলনের শুরুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বিচার বিভাগের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান। এ সময় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান বিগত সভায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়সমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, অন্তরায় ও করণীয় বিষয়ে একটি তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা করেন। সম্মেলনে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন অন্তরায় চিহ্নিত করা হয় এবং সেসব সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব নিরসন, আদালত ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারকরণ, চিকিৎসা ও ফরেনসিক সংক্রান্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রাপ্তি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, “বিচারকার্য পরিচালনার সময় আদালতকে বিচার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়েই কাজ করতে হয়। সকলের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান অন্তরায়গুলো দূর করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।” তিনি বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সকলের আন্তরিকতা ও কর্মতৎপরতার কারণেই বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। কিছু সমস্যা বরাবরের মতো থাকলেও তা নগণ্য; সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেগুলোও কমিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও একই আন্তরিকতা ও সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সভাপতি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার সমাপনী ঘোষণা করেন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে পাবনায় বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে সকলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


