Homeখেলাধুলাক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

খেলার শেষ বাঁশি বাজবে, এমন এক মুহূর্তে গোল করে বসলো ক্রোয়েশিয়া। ইনজুরি সময়ের ১০ম মিনিটে করা এই গোলে সমতায়ও ফিরলো ক্রোয়াটরা। কিন্তু সেই বিতর্কিত ভিএআর দেখে রেফারি গোল বাতিল করে দিলেন। অথচ, বক্সে বল ডেলিভারির সময় ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড়ের মাথায় বলটা লেগেছিল কি না, সেটাই ভালো করে দেখা হয়নি।বিতর্কিত এই অফসাইডে গোল বাতিল হওয়ার কারণে বিশ্বকাপের শেষ-৩২ থেকে বিদায় নিলো ক্রোয়েশিয়া, ২-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলোয় উঠে গেলো রেনোলদোর পর্তুগাল।পর্তুগাল জিতলেও ম্যাচটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টিতে সমতায় ফেরার পর যোগ করা সময়ে বদলি স্ট্রাইকার গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে জয় ছিনিয়ে নেয় রবার্তো মার্তিনেজের দল।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। পরে পেনাল্টি থেকে রোনালদো সমতা ফেরালে ম্যাচ গড়ায় রুদ্ধশ্বাস শেষ সময়ে।নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়েও দুই দল মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই কোচ রবার্তো মার্তিনেজের বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত কাজে দেয়।

৯৪তম মিনিটে বাম প্রান্তে বল পান রাফায়েল লিয়াও। ধৈর্য ধরে নিখুঁত একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন বক্সের ভেতরে। সেখানে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে দারুণ উচ্চতায় লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস।লিভাকোভিচের কোনো সুযোগ ছিল না। রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। বেঞ্চ থেকে নেমেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন তিনি।গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে তারা কর্নার আদায় করে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য নাটক।পেরিসিচের ভাসিয়ে দেওয়া বলে বক্সে জটলার সৃষ্টি হয়। বলটি ইগর মাতানোভিচ কিংবা রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে মারিও পাশালিচের কাছে যায়। পাশালিচ সেখান থেকে বল বাড়িয়ে দেন যশকো জিভার্দিওলের দিকে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়াও নেভেস নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন।ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা সমতার উদযাপন শুরু করলেও ভিএআরের ইঙ্গিতে মাঠের পাশের মনিটরে যান রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন এবং সেই মুহূর্তে পাশালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে পুরো আক্রমণটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হয় এবং গোল বাতিল করে দেন রেফারি।

গোল বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্তুগিজ খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে ক্রোয়েশিয়া।গোল বাতিলের পরও হাল ছাড়েনি ক্রোয়েশিয়া। ৯৯তম মিনিটে আরেকটি কর্নার পায় তারা। কর্নার থেকে মাতানোভিচ হেড করলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।এর আগে লুকা মদরিচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা চালান। অন্যদিকে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে সময় নষ্ট করার বদলে শট নিয়ে বল বাইরে পাঠান। তবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠা ক্রোয়েশিয়ার শেষ ক্রসটি সহজেই তালুবন্দি করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।এই জয়ে পর্তুগাল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করল। রোনালদোর সমতাসূচক গোল এবং বদলি গনসালো রামোসের ম্যাচজয়ী হেডে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল রবার্তো মার্তিনেজের দল। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে গোল বাতিলের তীব্র হতাশা নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ক্রোয়েশিয়াকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments