রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্যাট্রিয়ট। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অনিশ্চয়তা ছিল কিয়েভের।এবার সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের পাঠানো এক অডিও বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।এর আগে, গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পান বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতেও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।প্যাট্রিয়ট হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা রেথিয়নের তৈরি একটি ভ্রাম্যমাণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এটি বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে।রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার মধ্যে প্যাট্রিয়ট অন্যতম। তাই ইউক্রেনের জন্য এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তবে, নতুন লাইসেন্সের আওতায় শুধু প্যাট্রিয়টের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে তৈরি করা যাবে। এর সঙ্গে থাকা রাডার ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের মতো অন্যান্য উপাদান এ লাইসেন্সের আওতায় পড়বে না।ফলে, এসব উপাদানের জন্য ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপরেই নির্ভর করতে হবে।

এর আগে, গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর ৮১তম সম্মেলনের সময় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিজেরাই তৈরির পরামর্শ দেন। তবে, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সুত্র: দ্য প্রিন্ট


